Thursday, February 23, 2017

একটি কবিতা লেখব

কবি-সাজ্জাদ হোসেন সাখাওয়াত
একটি কবিতা লেখব 
ভালবাসা কবিতার চরন 
ভূমি দুজনর বাঁচার আশা 
কবিতারচয়িতা হবো দুজনে 
পাঠ করবো গুনগুন করে মনে। 
কবিতা বেলি ফুল মাথায় 
প্রভাতী কোকিল হবে
তুমি চা'য়ের কাপে বাষ্পীয় 
ভালবাসায় অচেনা ভোর। 
বেজা চুল শিশিরজলের মতো 
ঝরবে আমার আঁখি পাতে। 
আমার সর্বত কবিতার জন্য 
কবিতার অন্তঃমিলে 
সৃষ্টি হবে ছড়া আমি তো অপেক্ষা 
আছি ঐ মধুর সময়।

Tuesday, February 21, 2017

লাখো সালাম হে ভাষা শহীদ

কবি-সুলতানা সাথী
আকাশে আজ রঞ্জিত লাল 
বাতাসে বারুদের গন্ধ, 
ভাষার দাবিতে বাংলার সন্তানেরা 
মিছিলে মিছিলে তুলে ছন্দ।
মায়ের মুখে ঘুম পাড়ানীর গান 
শুনবে সারা জীবন ভরে, 
তাইতো তারা রুখে দাড়িয়েছে 
অধিকার থেকে যায়নি কো সরে।
 যারা কেড়ে নিতে চায় মায়ের ভাষা 
বাংলার মাটির বুকে চড়ে, 
রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই 
জানাই ক্ষিপ্ত সুরে। 
পুলিশের গুলি আর লাঠির আঘাত 
ফেরাতে পারেনি যাদের, 
বাংলা মায়ের সাহসী সন্তান 
ভাষা শহীদ বলি তাদের। 
জব্বার,সালাম,রফিক বরকত 
আরো কতো না জানা নাম 
একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসে 
জানাই লাখো কোটি সালাম।

চলনা

কবি-এমএইচ প্রিন্স
চলে আসনা সেই সব দুঃখ গুলোকে ভুলি
তুমি ছাড়া যে কষ্টকর কাটানো রাত গুলি 
চলনা প্রেমের পথে আরেকবার পা ফেলি 
মনের খাচায় নতুন করে স্বপ্ন গুলো পালি 
চলনা আবার পুরনো সৃতির খাতাটি খুলি 
জরিয়ে ধরে একটু করে দুঃখ জল ফেলি 
চলনা মনের আকাশে পাখনা দুটো মেলি 
পাখিদের সাথে আবারো ছোয়াছুয়ি খেলি 
চলনা মনের গলি নানা রঙে রাঙিয়ে তুলি 
অন্তত একটিবার ভালোবাসি কথাটি বলি

মাতৃভাষা প্রেম


কবি-মাইনুদ্দিন আল আতিক
আমি অনুভব করছি
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
একুশে ফেব্রুয়ারির রাজপথ
শোষকদের প্রহসন ১৪৪ ধারা।
রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবির হুংকার
সারিসারি সুপারি গাছের মতো
সাহসী বুকে এগিয়ে চলা ছাত্রজনতার ঢল।
আকস্মিক ছুটে আসা বুলেট বিদ্ধ তাঁদের বুক
গড়িয়ে পড়ছে টকটকে লাল তাজা রক্ত
লুটিয়ে পরা দেহের ছটফটানি
হাতে আটকে আছে ব্যানার-প্ল্যাকার্ড
কাকের কা-কা রব আকাশে-বাতাসে।
রফিক সফিক সালাম বরকতের দেহ ত্যাগ করে
প্রাণপাখি পাড়ি জমায় জান্নাতের ঠিকানায়,
রাজপথ ভাসে রক্তের প্লাবনে।
আমি মাটির মমতায় শহীদের আর্তনাদ শুনি
ঘ্রাণ শুকি ভালোবাসায়,
প্রতিবাদী হই মুষ্টিবদ্ধ হাতে
মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায়।

Monday, February 20, 2017

শুভদিন আসবে

কবি-আবুল কালাম আজাদ
 
প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ, প্রতিস্থান-- 
উলঙ্গ উল্লাসে মিথ্যার বান----- 
স্থান-কাল-পাত্র, মান-সন্মান 
ভরে দেয় কেউ দুর্গন্ধে । 
নিকুচি করে সব সভ্যতা, 
কুলকুচি করেযে বাস্তবতা, 
জনতার ওষ্ঠে টিক টিক প্রাণ, 
অপেক্ষা যেন দম বন্ধে। 
স্বেচ্ছাচারী সব কত ভ্রষ্ট, 
সমাজটা করে দেয় নষ্ট ; 
কষ্টের ভয়ে তবু সুশীল কেন 
পড়ে আছে নিয়তই ঘোমটা ? 
দেখে দেখেনা কেন অত্যাচারী, 
নিঃশ্বাস হামেশাই করছে ভারী। 
লাজ-লজ্জার সব মাথা খেয়ে 
নাচে কেউ দিনরাত খেমটা । 
তবু নির্যাতিত মনে আশার আলো 
জ্বলবেই-----দূর হলে মনের কালো, 
ভালমন সকলেই জোট বাঁধলে 
শান্তির সুবাতাস বইবে ।

মূল্যহীন শিক্ষা

কবি-এমএইচ প্রিন্স
লাভ কি হলো কষ্ট করে বিসিএস পাস 
লেখাপড়ার পেছনেই হল জীবন সর্বনাস 
সার্টিফিকেট কি দিয়ে যাবে শুধুই আশ্বাস 
সুশিক্ষায়ও চাকুরি নেই এ কেমন উপহাস 
লাভ কি হলো শুনে স্যারের বক বক 
সুশিক্ষা অর্জন তো আর নয় সবার শক 
ক্যারিয়ার যদি গড়ত সদা বোর্ডের চক 
দারে দারে ঘুরে জীবন হতো না নড়ক 
লাভ কি হলো এই সুশিক্ষা অর্জন করে 
সুশিক্ষিত মানুষও এখন অনাহারে মরে 
শিক্ষার মেরুদন্ড আজ ভাঙা নানান বাহারে 
শিক্ষার মূল্য দাও এটাই আশা সবার তরে

Friday, February 10, 2017

সময়ের স্রোত ধারা

লেখক-সাজ্জাদ হোসেন সাখাওয়াত
বাড়ীর উঠানে অনেক ফুল ফুটেছে। অপলকে আমি তাকিয়ে ফুলের দৃশ্য দেখি।হঠাৎ শিমুল বলে" তাকিয়ে আর কি লাভ কাল ঝরে পড়ে সৌন্দর্যরূপ নষ্ট হয়ে যাবে"।আমার মনে হলো আমিও ঝরা ফুলের মতো,কত না সুন্দর ছিল জীবনের চলার পথের সময়। 
- মনে পড়ে রাজধানীর কোন সস্তা হোটেলে উন্নত খাবারের কথা।আমি, সুনীল, নিতাই, বাবু চায়ের টেবিলে মজার গল্পের জড তুলার কথা।বাবু বলতো, তুই আর কত লেখবি গল্প-কবিতা এবার বন্ধ কর।নিতাই সবসময় ছিল বাস্তবিক, শুধু ভাবতো কি করে রজনী চালাবে। সুশীল ছিল লটারি প্রিয় ভাগ্যর উপর ছেড়ে দিতো জীবনের লক্ষ। সবাই মিলে বসলে ঘড়ির কাটা আমাদের রেখে চলে যায়।দিরাম ওয়েটার প্রতিদিন খাবার সার্ফ করতো।দিনেদিনে দিরাম কাকা আমাদের পরিচিত হয়ে গেল। 
- আজ এই ক্লান্ত বিকালে মনে পড়ে সুশীলের কথা।সেই বলে ছিল,তোর লেখা কখন প্রকাশ হবে?আমরা পড়তে পারিনা। জানিস আমার শখ তোর লেখা একটি বই আমার কাছে রাখতে। যখন তোদের মনে পড়বে তখন পড়বো।
- লেখা আজ প্রকাশ হলো কিন্তু সুশীল আজ লন্ডনে ।শুনছি সে নিস্তব্ধ পথের যাত্রী। খাওয়া -দাওয়া বন্ধ প্রায়।নিঃশ্চুপ থাকে প্রায় সবসময়।লিভার নষ্ট হয়ে গেছে হয় তো নিতাই মতো চলে যাবে না ফেরার দেশে। 
-- নিতাই আমার বাসায় এসে ছিল কয়েক বছর আগে।বিকালে চায়ের কাপে আড্ডা বসে আমার বাড়ীর ছাদে ।আমার দিকে ছেয়ে পেল পেল করে কাঁদতে শুরু করে। আমি বলি বোকার মতো এমন করছ কেন। নিতাই বলে,বড়দা, মেজদা মরেছে ডিসেম্বর মাসে ।তাই ডিসেম্বর মাসকে ভয় লাগে । আমি বলি ভগবান তোঁদের কি একই দিন সৃষ্টি করেছে, বোকার মতো সব কিছু। নিতাই বলে তুবও প্রতিনিয়ত ভয় করে দোস্ত। 
- কয়েকমাস হলো পরলোকগত হল নিতাই। মার্চ মাসে মৃত্যুর টিকেট কাটল।নিতাই কত না বাসনা ছিলো, এবার সুনীল দেশে ফিরলে আবার সবাই মিলে রাজধানী ঐ রেস্তোরাঁ আড্ডা দিবে, দরকার হলে দিরাম কাকা কে নিয়ে আসবে।দিরাম কাকা আজ হয়তো বৃদ্ধ হয়ে গেছে। সেও আজ হয়তো পাঞ্জা লড়ছে মৃত্যুর সঙ্গে। 
- বাবু হারিয়ে গেছে অনেক আগে।পৃথিবীর অভাবের দরিয়া তাকে হার মানিয়ে দিলো। বি,কম পাশ করে ছুরালী উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষাগত পেশা যোগ দেয়।প্রথম দিকে আসতো এর পরে আর আসে না। 
-- হঠাৎ একদিন নিতাই আর সুনীল বলে উঠলো, চল সবাই মিলে বাবুর গাঁয়ে ঘুরে আসি।আমি না করলাম না।তিনজনে একটি টেক্সি করে যাত্রা শুরু করি। সুশীল আগের মতো সিকেরেট টানে নিতাই খালি কন্ঠে গান ধরে। 
- আমরা গিয়ে জানতে পারি বাবু মাষ্টার নামে কেউ এই গাঁয়ে থাকেনা।হতাশা নিয়ে চলে আসার সময় দিরাম কাকার সাথে দেখা,আমার কন্ঠ শুনে বলে উঠে,"কে কবি না কি?"আমরা দিরাম কাকা কে ছিনতেছি না।চুল সব বকের মতো সাদা হয়ে গেছে।বড় একটি চশমা চোখে ঝাপসা দেখে, আমার কন্ঠ শুনে বলে দিয়েছে আমার নাম। 
- সুনীল বলে দিরাম কাকা বাবু কোথায় জানেন। দিরাম কাকা বলে, বাবু কে কাবু করেছে সমাজ।নিতাই বলে সব খুলে বলেন কাকা,শুন তাহলে। বিদ্যালয় ক্লাস করার মতো কিছু নাই। উপজেলা T U N O সাথে দেখা করে বাবু। সবাই মিলে বসে সিদ্ধান্ত নেয়, গ্রাম থেকে চাঁদা তুলে বিদ্যালয় কার্যকর্ম চালাবে। বাবু মাষ্টার চাঁদা তুলার দায়িত্ব পায়।প্রচুর চাঁদা উঠে,গাঁয়ের বধূ কন্যারা হাতে বালা বিক্রম করে চাঁদা দিয়েছে।সব চাঁদা টাকার প্রধান শিক্ষক কে দিয়ে দেয় বাবু মাষ্টার। সব ঠিকঠাক যাচ্ছিল। 
- হঠাৎ গাঁয়ে একদিন ভোরে স্বর উঠে,সবাই তড়িৎ গতিতে ছুটে চলে বাবু মাষ্টারের ঘরে ।তার গৃহে এক সুন্দরী রমনীর লাশ পাওয়া গেছে। গ্রামের অামজনতা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে, প্রধান শিক্ষক কৌশলে বাবু মাষ্টার কে গ্রাম পালাতে সাহায্য করে।বলতে বলতে কেঁদে দিলো দিরাম কাকা , হতছড়া সেই যে গেল আর একবার আসে নাই। বাবু মাষ্টার চলে যাওয়ার পরে আবার স্কুলে অনিয়ম শুরু।বুঝতে বাকি নেই কারা এক কাজ করেছে। গাঁয়ের ছেলেরা মদের আড্ডায় পরিণতি করেছে বাবু মাষ্টারে ঘরটাকে। 
- দুঃখ ভারাক্রান্ত র্হদয়ে আমরা চলে আসি।যাচ্ছিল সময় সুনীল আবার বিদেশে পাড়িদেয়, নিতাই চলে যায় কর্মক্ষেত্র। একদিন মাগরিবের নামাযের সময় বাসায় কোলিং বেলে টিং টিং শব্দ করে। নামায পড়ে দেরী হয়ে যাওয়া দরজার সামনে কাউকে দেখি নাই। দরজার এককোণে নতুন একটি চিঠি পাই।চিড়ে দেখি ভিতরে আরেকটি খামে বছর দশেক আগের হবে এমন একটি চিঠি। প্রথম চিঠি লেখেছে পোষ্ট মাষ্টার,/ জনাব সালাম নিবেন এই চিঠি এসেছিল প্রায় দশ বছর আগে কিন্তু কোন অসাবধানতার কারনে আপনার নিকট চিঠি পৌঁছাতে পারি নাই তাই আমরা অান্তরিক দুঃখিত। আজ পুরাতন আলমারি পরিষ্কার করার সময় আপনার চিঠি আমাদের হাতে পাই এবং আপনার নিকট পাঠাই। 
--- ------------ বুঝতে পারলাম চিঠি অনেক আগের ।খুলে দেখি প্রেরক বাবু মাষ্টার আমার চোখে অশ্রু ঝরছে তখনি যখন বাাবুর লেখা চিঠি দেখি, ,,বাবু লেখেছে:
--- দোস্ত পৃথিবীর উপরে হয়তো সময় বেশি নাই।কারন ডাক্তার মশাই নিষ্ঠুর কন্ঠে জানিয়ে দিয়েছে তিন মাসের মাঝে বিদায় নিতে হবে।বড্ড মিস করি ত্রিপুরা দাতব্য হাসপাতের ১০৪ নাম্বার কেবিনে শুয়ে।তোদের মনে পড়ে প্রতিটি নিঃশ্বাসে।যদি চিঠি হাতে যায় সুনীল আর নিতাই কে নিয়ে চলে আসিস।যাওয়ার আগে তোদের শেষ দেখা দেখতে চায় মন।এই দাতব্য হাসপাতালে হয়তো রাজধানী সেই রেস্তরাঁ মতো পরিবেশ নাই তাতে কি আমরা বন্ধুরা যেখানে যাই সেখানে তো রেস্তরাঁ তৈরিহয়।আসবি আসা করি,সুনীল আর নিতাই কে মনে করে বলে নিয়ে আসিস।আমি তোদের দেখার অপেক্ষা আছি,আবার সেই রাত্রিচরী হবো। ইতি:-(বাবু) 
-- ঐদিন সন্ধ্যায় কেঁদেছি অনেক চিৎকার করে কেঁদেছি, ইচ্ছে মতো অশ্র ঝরালাম দুই নয়নে।আমার কাছ থেকে এইভাবে ঝরে গেলো সব কোমল মনের মানুষেরা ।বাড়ীর উঠানের ফুল গুলা হয় তো ঝরে পড়বে গভীররাত্রিতে ।যদি একটা ফুল থেকে যায় তখন সে বুঝবে আমার এই অন্তঃ দহনের আত্মনাদ ।মসজিদের মাইকে আযান এশার শুনা যাচ্ছে, অযু করে নামায পড়ব।এর পরে আবার ভাববো দুষ্ট বন্ধুদের।

Thursday, February 9, 2017

সকলের তরে শান্তি চাই

কবি-আবুল কালাম আজাদ
আঁধারের সাথে প্রতি রাত্রি হলে
নয়নের জলে কত আগুন জ্বলে!
হতভাগা যত সবই কারো সন্তান,
যারা কর্মের পায়না দাম-প্রতিদান,
জ্বলন্ত স্বপ্ন যারা পুড়ে করে ছাই ,
একই প্রভুর সৃষ্টি তারা
অভাবের কশাঘাতে দিশেহারা
আমাদের মতই কারো বোন-ভাই ||

স্বপ্ন চুড়াতে কত স্বপ্নগাঁথা---
কেউ কি ভেবেছে তার পিছনে আছে ,
কত বঞ্চিত মানুষের মর্মগাঁথা ?
লক্ষ আশায় কত বক্ষ কাঁপে,
নিরজনে গোপনে মন পুড়ে ছাই।
হৃদয়ের আয়নাতে দেখ বন্ধু,
তারাও কারো ধন, কারো সন্তান,
বাপ-মা কারো আর কারো বোন- ভাই ||

কার ধন কে খায় দেখবে কা তা'
কত নেতা বলে কত বড় যে কথা।
অনেকেই চুষে খায় শিকড় ও মাথা।
যার বুকের মাঝে জ্বলে ধ্বংস-অনল
যে অনলে তুমিও হতে পার ছাই ||
তাই বলি এসো ওগো বন্ধু,
সুখে-দুখে সকলেই হই একাকার,
সকলের তরে আজ শান্তিটা চাই ||

Wednesday, February 8, 2017

মনের আগুন

কবি-আবুল কালাম আজাদ
মনের আগুন জ্বলে দ্বিগুণ
জল ছিটিয়ে দিলে ,
দুঃখগাঁথা রুক্ষ্ম করে
সুখ কেড়ে নেয় চিলে ।
সাতসাগরের যত জল
দুই চোখেতে ছলোছল।
বল দিয়ে তো কল চলে না
কায়দা বিকল হলে ।

রূপসী বাংলা আমার

কবি-শেখ বিপ্লব হোসেন
রূপসী বাংলা আমার, তুমি যে রূপে অনন্যা, 
 তোমার গগনে রূপালী চাঁদ,ছড়ায় আলোর বন্যা। 
সাগরনদী, ঝর্ণাপাহাড়, জুড়ায় সবার আঁখি, 
তোমার বুকে স্বপ্নকুড়াই, দেখে হরেক পাখি। 
সবুজ শ্যামল তোমার বুকে, সোনা ফসল দোলে,
তোমার প্রেমে কৃষক-শ্রমিক, দুঃখব্যথা ভোলে। 
সবুজ শীতল ছায়া যেন, তোমার শাড়ির আঁচল, 
জোনাকজ্বলা আঁধাররাতে, হৃদয়ে লাগে দোল। 
সবার প্রিয় জন্মভূমি, প্রীতি দিয়ে ঘেরা, 
আদর-স্নেহ-মায়ায় গড়া, তুমিই সবার সেরা। 
কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে, তোমার কোমল অঙ্গে, 
স্বার্থক হলো জন্ম আমার, জন্মেছি এই বঙ্গে।

Tuesday, February 7, 2017

প্রেমের উপপাদ্য

কবি-মাইনুদ্দিন আল আতিক
                                                    হাজার ব্যস্ততা ক্লান্তি আর অবসাদ 
                                                    দূর হয় তোমার এক টুকরো হাসিতে 
                                                    আমি মাতাল হই তোমার রক্তজবা ঠোঁটের স্পর্শে, 
                                                    ছলাৎ ছলাৎ ছন্দে বয়ে চলে কবিতা 
                                                                                 হৃদয়ের এপিঠ ওপিঠ। 
                                                    আমার নীথর দেহ জেগে ওঠে তোমার পরশে 
                                                    হারানো স্নায়ু শক্তি ফিরে পাই 
                                                    তোমার এক ঝলক হাসিতে।
                                                    তোমার কাজল কালো মায়াবী নয়নের মাঝে 
                                                    খুঁজে পাই হাজারও রঙিন স্বপ্ন 
                                                    উচ্ছাসিত পূর্ণিমা রাতের আকাশে তাকিয়ে 
                                                   মুছে ফেলি অপ্রাপ্তির আর্তনাদ। 
                                                   জোসনাস্নাত হৃদয় মেতে ওঠে 
                                                   তোমার মায়াবী সুরের উল্লাসে 
                                                   মোহিনী মায়ায় তুমি আমার নতুন কল্পনা। 
                                                   বাঁধতে চাই আমার পিঞ্জর তোমার বুকের আঁচলে 
                                                   রংধনু প্রেম-প্রেম খেলা করে স্মৃতির দরোজায়। 
                                                   নান্দনিক ইচ্ছেরা জেগে ওঠে মনে- মনে 
                                                  ডুব সাতারে হারিয়ে যাই তোমার মাঝে।

কবি

কবি-এমএইচ প্রিন্স
শব্দের রাজ্যের পথিক আমি সারাদিন শুধু ভাবি 
অনেকে সাহিত্যিক আবার অনেকেই বলেন কবি 
রং তুলি কিছুই তো নেই তবু মনে মনে আঁকি ছবি 
কখনও ছবির দেশে হারালে সবই হয় হিবি-জিবি 
শব্দের রাজ্যের গভিরে অনেক শব্দই যেন নয়াবি 
ধরা দেয় না সহজে তারা দেখতে যে খুবই মায়াবি 
ধরা দিলেও বলে আমায়, আমার যে রয়েছে দাবি 
ছন্দ হব তোর সব কবিতার যেদিন বন্ধু মোর হবি

একুশ

কবি-শেখ বিপ্লব হোসেন
একুশ এলেই মনে পড়ে 
বর্ণমালার গান, 
ভাষার প্রতি শহীদভাইয়ের 
কী নিদারুণ টান ! 
একুশ এলেই মনে পড়ে 
ভাই হারানোর ব্যথা, 
একুশ এলেই মায়ের চোখে 
শুধুই নীরবতা। 
একুশ মানেই মায়ের মুখে 
প্রথম শেখা বুলি, 
একুশ মানেই স্বপ্ন সাজাই 
দুঃখ-ব্যথাভুলি। 
একুশ হলো মায়ের ভাষা 
মিষ্টি-মধুর গান 
অ আ ক খ বর্ণমালা 
জুড়ায় সবার প্রাণ। 
একুশ মানে মুক্ত কবি 
কাব্য লিখে যায়, 
ভালোবাসার পরশ মেখে 
আপন সীমানায়।

নব জাগরণ

কবি-মোজাফফর পলাশ
অনেকদিন কিছু লিখিনা।
জঙ ধরেছে হাতে না মনে টের পাইনা।
অনেকদিন ভোর দেখিনি।
কখন যে সূর্য ডোবে তাও দেখিনা।
আসা যাওয়ার পথের ধারে কখনো 
পূর্ণিমার চাঁদ দেখি কখনোবা ঘুটঘুটে অন্ধকার।
এভাবে কতদিন একঘেয়েমি একলা থাকা।
বন্ধু ছাড়া স্বাদবিহীন মগ্ন থাকা।
ভাল্লাগেনা। তারপরেতেও কিসের টানে 
উদাস হাওয়ায় ভাসছি একা।
ভাসতে ভাসতে কিবা পেলাম।
হারালামতো তারও বেশী।
পাওয়াটুকুও বিলীন হলো অযত্ন আর অবহেলায়।
এবার আমি পন করেছি 
ভাসবোনা আর অমানিশায়।
নিকষ কালো অন্ধকারে।
খাঁচার জীবন একইরকম অস্হিরময় বন্দী থাকা। 
ভাঙব তালা।
এবার আমি ভাঙব তালা।

তুমি যাবে

কবি-সাজ্জাদ হোসেন সাখাওয়াত
গিন্নি তুমি যাবে 
অজয়া পাড়া গাঁ 
সুখের সাগরে অমলিন 
হবে তোমার মন। 
আমি যাবো,যাবো! 
না গিয়ে পারবেনা তুমি! 
তোমার জন্য হাজার খানিক 
হাত পাখা নিয়ে নিহাল বৃক্ষ বসে আছে। 
তুমি যাবে বলে,
গিন্নি হাজার শিল্পী তুলেছে ঝংকার 
মাঝি চাচা তরী নিয়ে ঘাটে 
নদীর পানি আজ সমতল হয়ে আছে। 
আমি যাবো,,,,! 
তুমি যাবে বলে গাঁয়ের আজ 
পিটা উৎসব মাছ গুলি 
পুকুরে টুপটাপ খেলা করছে 
শিশুরা অানন্দে আজ 
শিশু পার্ক তৈরি হলো।

জাতি সুরঙ্গে

কবি-আবুল কালাম আজাদ
কি নীতি তরঙ্গে জাতি সুরঙ্গে — 
কে জানে ওপারে আলো না আঁধার ! 
মাঝে এ সমাজে তোলে যে তুফান 
যত সব কুলাঙ্গার — 
ও বন্ধু, 
কে জানে ওপারে আলো না আঁধার! 
নীতিহীনে নদীজল নোংরা করে 
সমাজকে ঠেলে দেয় অন্ধকারে, 
সুনীতির আলো নিভাতে ছাড়ে 
বিষেমাখা ফুৎকার — 
ও বন্ধু, 
কে জানে ওপারে আলো না আঁধার.! 
 আলোর মশাল জ্বালি চলো হে নবীন, 
নইলে বাজবে যে ধ্বংসের বীণ, 
জীবনের রঙিন স্বপ্নগুলো 
হয়ে যাবে ছারখার — 
ও বন্ধু, 
কে জানে ওপারে আলো না আঁধার.!

Friday, February 3, 2017

রাজকুমারী

কবি-এমএইচ প্রিন্স 
সে জে এক নামহীন রাজ্যের রাজকুমারী 
যুদ্ধের ময়দানে যার ভালবাসার তরবারী 
বল যতই থাকনা কেন জয় নিশ্চিত তারই 
হার জীত অধীনে তার, তারই পাল্লা ভারি 
মাথায় রূপমুকুট যেনো সৌন্দর্যের বাহারী 
জোনাকিও তার রূপরশ্নি করতে চায় চুরী 
পরীরাও শেষ পর্যন্ত হলো তারই যে প্রহরি 
রূপ রাজ্যে চলে শুধু তার রূপের বাহাদুরী 
তাকে দেখার আশায় শত রাজা অাহামড়ী 
অসম্ভব যেন পাওয়া তাকে শর্ত ভুরি ভুরি 
কত রাজাই গেল সেই শর্তের ভেলায় চড়ি 
ব্যর্থ হয়ে নিজ ভূবনে কতজনই দিল পাড়ি 
অপেক্ষায় সে এখনো তার রাজকুমারেরই 
সে জে এক নামহীন রাজ্যের রাজকুমারী

Monday, January 23, 2017

শিশিরের চোখে রশ্মি

লেখক-মামুন অপু
রশ্মির প্রথম ছেলে সন্তান হয়েছিলো বিয়ের দু বছর পর। কত স্বপ্ন, কত কল্পনা, কত অনুভূতি রশ্মির মনটার ভেতর খেলেছিলো তা শুধু রশ্মিই জানে। একটা মেয়ে যখন মা হবার সপ্ন দেখে, সে স্বপ্ন পূরণে মরিয়া হয়ে উঠে। রশ্মির ক্ষেত্রেও এর ব্যাতিক্রম হয়নি। বাচ্চা পেটে আসার পর থেকেই কেমন জানি চাপা আনন্দে মনটা ভরেছিলো রশ্মির। পেটের উপর বারবার হাত বুলাচ্ছে, ঘুমের ভেতরও পেটের উপর আলতো করে হাত রেখে ঘুমায়। মাঝেমাঝে সে ঘুম থেকে চমকে উঠে। বাচ্চাটা যেন হঠাত মা বলে ডেকেছে। রশ্মির শরীর কাঁপতে থাকে। পরক্ষণে শরীরের ক্লান্তিতে চোখ বুজে আসে।আস্তে আস্তে নিজের ভেতর বাচ্চাটার নড়া চড়া শুরু করে, তখন পেটের উপরে হাতটা আস্তে করে রাখে আর আলতো করে হাত বুলিয়ে মনে মনে বলে, ঘুমাও দুষ্টমি করো না, মা ব্যথা পাচ্ছি। রশ্মির মনটা ভরে উঠে আনন্দে। সময় পার হয়ে যাচ্ছে, ক্রমাগত রশ্মির শরীরের ভেতর আরেকটা মানুষের অস্তিত্বও ভাড়তে থাকে। রশ্মির শারীরিক কষ্ট হলেও বাচ্চার জন্য, মা হবার জন্য এ শারীরিক তীব্র যন্ত্রনাটা খুবই তুচ্ছ মনে করে শরীরকে মোটেই পাত্তা দেয় না। রশ্মির বিয়ে হয়েছিলো দু বছর আগে দিপুর সাথে। দিপু খুব ভালো ছেলে। একটি প্রাইভেট ব্যাংকে জব করে। বিয়ে হয়েছিলো তাদের দুজনের পছন্দ অনুসারে।বিয়ের পরে দিপু রশ্মির সকল দায়িত্ব কর্তব্যের সাথে পালন করছে। দিপুটাও একটু অন্যরকম, খুব রোমান্টিক, রশ্মির পেটে বাচ্চা আসার পরে, বাসার রান্নাটাও রশ্মিকে করতে দেয়না। কিন্তু রশ্মিও দিপুকে কোন কিছু করতে দেবেনা। তবু মাঝেমাঝে দিপু রশ্মির কাপড় গুলো ধুয়ে দেয়, রান্নার সব্জি কেটে দেয়, বিছানা গুছিয়ে দেয়, আর কাছে পেলেই রশ্মির গাল রাঙ্গিয়ে দেয় অজস্র চুমুতে। রশ্মিও দিপুর ভালোবাসা শরীর ও মন দিয়ে উপভোগ করে। দিপুর পাগলামি প্রথম প্রথম একটু বিরক্তিকর মনে হলেও এখন ঐসবই খুব ভালো লাগে। দিপু না করলেও চেয়ে নেবে, দুজনের মাঝে কোন জড়তা নেই, বিদ্রুপ নেই, অহংকার নেই, নেই কোন বাড়তি প্রত্যাশাও। রশ্মির বাচ্চা পেটে আসার পর দিপুও খুব আনন্দিত। রশ্মির কোলে শুয়ে পেটের সাথে কান লাগিয়ে বলে, শুন রশ্মি, তোমার পেটের বাবুটা আমাকে আব্বু বলছে। তখন রশ্মির বুকটা আনন্দে ভরে যায় আর মুখটা আনন্দে লাল হয়ে উঠে আগুনের রঙে। বাসাটা খুব সুন্দর করে সাজিয়েছে দিপু আর রশ্মি মিলে। দুজনের মধ্যে খুব ভালো বোঝাপড়া রয়েছে। ঝগড়া করা, সন্দেহ করা এসব কিছু কখনোই তাদের ভেতর স্পর্শ করেণি। শুধু ভালোলাগা আর ভালোবাসা। আদর স্নেহে দুজন দুজনার। রশ্মির বাবার বাড়ি সাভারে, ঢাকায় থাকে আত্মিয় সজন অনেকে। মাঝেমাঝে রশ্মির মা এসে মেয়ে জামাইকে দেখে যায়। দিপুর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে। সম্পর্কের বিয়ে হয়েছিলো দুই পরিবারের মতামতের উপর। দিপুর মা বাবাও বাসায় আসে বেড়াতে মাঝেমধ্যে । দু পরিবারে রয়েছে সুসম্পর্ক। গভীর রাত। দিপু আর রশ্মি ঘুমাচ্ছে। হালকা আলো রুমটাকে খুব সুন্দর ফুটিয়ে তুলেছে। দিপুর হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গেগেলো রশ্মির চাপা কোঁকানিতে। দিপু বসে পড়লো। ডে-লাইট অন করে দেখলো রশ্মির শরীরটা নিথর হয়ে আছে। কয়েকবার ডাকা-ডাকি করেও কোন সাড়া পেলো না। সাথে সাথে হাসপাতালে ফোন করে এম্বুলেন্স ডাকলো। হাসপাতালে ভর্তি করানো হলো ইমার্জেন্সিতে। দায়িত্বরত ডাক্তার বিভিন্ন টেস্ট করে দিল খুব দ্রুত। দিপু খুব চিন্তায় পড়েগেল। গভীর রাত তাই কাওকে ফোন করে নি, সকালের অপেক্ষা শুধু। অপেক্ষার রাত ফুরায় না সহজে। ডাক্তার বললো, আপনার রুগিকে ইমার্জেন্সি অপারেশন করতে হবে, না হয় বাচ্চা এবং বাচ্চার মা দুজনেই আসঙ্কাতে রয়েছে। দিপু ক্রেডিট কার্ডে টাকা ফে করলো। অপারেশন থিয়েটারে রশ্মিকে নিয়ে গেল। এক ঘণ্টা লাগবে অপারেশন শেষ করতে। এক ঘণ্টা দিপুর কাছে এক হাজার শতাব্দি মনে হলো। দিপুর মাথাটা ঘুরছে। কি করবে দিশা পাচ্ছে না। এক ঘণ্টা পার হলো। ডাক্তার এসে দেখে দিপু বেঞ্চের উপর বেহুঁশ হয়ে পড়ে আছে। দিপুকে হালকা কিছু সেবা যত্ন নার্সরা করলো। জ্ঞান ফিরলো। জ্ঞান ফিরেই নার্সকে জিজ্ঞেস করলো, আমার রশ্মি কেমন আছে? নার্সরা জানাল, আপনার রুগি ঘুমিয়ে আছে। সে মোটামুটি সেভ, তবে আপনাদের বাচ্চাটা মৃত ছিল। দিপুর বুক থেকে একটা দীর্ঘ নিশ্বাস বেরুল। দুপুরে রশ্মির জ্ঞান ফিরলো, দিপু বসে আছে রশ্মির মাথার কাছে, আলতো করে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে রশ্মির মাথায়। রশ্মি জিজ্ঞেস করলো, আমাদের বাবুটা কেমন আছে গো? আর দেখতে কার মত হয়েছ? তোমার মত না আমার মত? দিপুর চেখ থেকে ঝরঝর করে পানি পড়তে শুরু করলো। রশ্মি বুঝে পেলেছে কী হয়েছে তার বাবুটার। রশ্মির দুচোখ বেয়ে কানের কিনার ধরে নেমে গেল কিছু লোনা অশ্রু, তার সাথে নেমে গেলো এক বুক স্বপ্ন, কল্পনা, আনন্দ।

Sunday, January 22, 2017

জীবেসেবা

কবি-আবুল কালাম আজাদ
জীবেসেবা কর যদি পশুকেও কর, 
নরাধম পশুটাকে দুই চাঁটি মারো । 
তারপর সে বেটাকে মারো জোরে চাপ : 
তাহলেই বলবে সে, "তুই আমার বাপ"| 
অসময়ে যদি তুমি ধর তার হাল, 
সুসময় এলে সে হবে তোর কাল । 
একটু তাকদ পেলে করে ফোঁস ফোঁস, 
ক্ষতি করে বলে, "তোর কপালের দোষ"|

Monday, January 16, 2017

প্রতিচ্ছবি

কবি-সাজ্জাদ হোসেন সাখাওয়াত 
অভাব অনটনে যাচ্ছি কশে 
তবুও যাই মিষ্টি হেসে। 
সমাজ বুঝেনা আমার মুখের ছলনা 
 দারুন অভাব যার হয়না তুলনা। 
দিবালোকে কষ্টের সাগরে ছুটে 
 প্রতিনিয়ত হচ্ছে ভুলত্রুটে 
দুবেলা অন্নর জন্য 
ভুলে যেতে চলছি পাপপুণ্য। 
সৃষ্টিকর্তা দেখে আমার অশ্রুজল, 
গভীর নিশিতে চোখ টলমল 
রম্য মঞ্চে কেউ বুঝেনা আমার ভাষা 
করে নাই কখনো কেউ কোণঠাসা। 
দিনে এনে দিনে খাই 
একটু রসিকার উপাই নাই। 
বেতন যাহা পাই 
একটু অন্ন প্রাণ বাঁচাতে নাই! 
জীবন প্রদীপ নিবুনিবু 
মুখের হাসি থাকে তবু। 
 আমি এই সমাজের প্রতিচ্ছবি 
মঞ্চে উপরে নির্বাক নিদারুণ নিরুপায় কবি।