Thursday, May 18, 2017

তুমি আর আসবে না

মোহাম্মদ অংকন
ভাল লাগছে না, এই ভেবে, তুমি আর আসবে না, 
তুমি না আসলে আমি এসে কি করব? 
একা একা প্রহর গোনার চেয়ে মৃত্যু ঢের ভাল। 
তুমি যখন ছিলে না, তখন অন্যরকম ছিলাম, 
ভাবনার জগৎ ছিল না, একা মানুষ আমি, 
তোমার পদচারণায় মূখরিত হল আমার তরুণ প্রাণ। 
সুখের প্রণোদনা পেয়ে র্দীর্ঘদিন বাঁচার ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম, 
হয়তো আর কিছুকাল তুমি আমি গল্প করতাম হাটতাম বাঁকা নদীর তীরে, 
খোলা মাঠে, লোকে লোকারণ্য হাটে, শিশুদের পাঠশালায়, 
যেতাম কোনো আশ্রমে, কোন এক সুখী সম্পতির পরিবারে। 
অনেক পথ হেঁটেছি, কভু ক্লান্ত আসে নি, 
ঠায় বসে থেকেছি অপেক্ষায়, জানতাম আসবে। 
এখন আসবে না আর এই ভেবে পা দুটো চলে না পথকে অনেক দুর লাগে, 
অচেনা লাগে শহর, মনে হয়, নদীর তীর নেই, মাঠে ফসল নেই, 
পাঠশালা হয়তো বন্ধ, সুখী দম্পতি অনাহারে আছে, 
যেমনটা আমি তোমার না আসার সংবাদে- 
ছেড়ে দিয়েছি আহার, প্রত্যুষ কবিতা লেখা। 
জীবনের রুটিন কমিয়ে আনতে চাই, 
তোমার অনুপস্তিতে আমি যেন ভিনগ্রহের জানোয়ারে পরিণত হয়েছি, 
যদি শেষবারের মত আসতে, দেখতে বর্তমান হালচাল, 
ফিরে যাব না বলে পাশে থাকতে চিরকাল, 
এই আমায় ভালবেসে।।

Wednesday, May 17, 2017

হলুদ চোখ

মাহমুদুল ইসলাম
অপরূপ সে চোখ, শালিকের হলুদ দুটি চোখ 
ঘুমিমে আছে যেন আমার স্বপ্ন কাননে, 
রাস্তার মোড়ে মোড়ে সবুজ গাছের ফাঁকে 
এমনকি আনন্দ আবেগ সব খানে দুটি চোখ, 
শালিকের হলুদ দুটি চোখ। 
কি সরল সে চোখ ছাই রাঙা দেহের মাঝে মনে হয় 
প্রিয়ার প্রেম মিশে হলুদ রঙের সাজে। 
 নেমন্ত্রণ তোমায় প্রিয়ো চোখ, শালিকের হলুদ দুটি চোখ। 
তুমি বারে বারে এসো আমার স্বপ্নলোকে আমার অবসরে, 
ঘুমের আরমোরায়, এসো আমার খোলা জানালায় 
এসো তুমি হলুদ চোখ।

তুমি আর আমাকে ভালবাস না

মোহাম্মদ অংকন
'তুমি আর আসবে না' বলেও এসেছিলে আজ, 
দীর্ঘ অবধি খোসগল্পে মেতেছিলে একবারও স্মরণ করনি 
এই আমাকে যে তোমাকে বসন্ত অবধি ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়েছে। 
আজ তারাই তোমার প্রেক্ষাগৃহে স্থান পেল, 
যারা তোমার বিরুদ্ধাচারণ করেছে, 
অথচ বৃথা হল আমার নিরলস ভাবনা। 
শেষ বসন্তেও যখন একা ছিলে,আমায় করেছ অনুভব 
তোমার অনুভবের তাড়নায় দুরে থাকতে পারিনি, 
দুজনের জীবনের গল্প মিলিয়েছি, 
স্বপ্ন দেখেছি যুগলবন্দী হয়ে বাঁচার। 
আজ যখন আমাকে ছাড়া আড্ডার পসরা সাজিয়েছ, 
তখন আমি ভালবাসার গল্প লেখা বন্ধ করেছি। 
সে দিনের স্মৃতি তোমার মনে নেই,কিন্তু আমার আছে, 
ভালবাসার প্রত্যক্ষদর্শী রাখতে চেয়েছিলে, আমি বলেছিলাম,'তুমি আমার প্রমাণ।' 
আর আজ কি হল?আসবে না বলেও এলে, 
অন্যের হাত ধরে,আমার প্রতিশ্রুতির ভালবাসা বিনাশ করে, 
বুঝতে বাঁকি থাকল না,'তুমি আর আমাকে ভালবাস না।'

Monday, May 15, 2017

ঠোঁট দিয়ে দায় মোছে

আবুল কালাম আজাদ
দুইটি প্রাণীই ক্ষুধার্ত, টিকটিক টিক প্রাণ আছে, 
একটি খাবে আরেকটিকে, তার মনেতে তান আছে । 
অসহায়টির এক স্বজাত 
সভ্যরূপী কী বজ্জাত ! 
চকচকে তার পাশব চোখ, লকলকে জিভ লটকাছে ! 
বিবেক করে বলাৎকার 
তুললো ছবি চমৎকার ! 
শক্তিশালী ক্যামেরা আর লোভ মোড়ানো প্রাণ আছে । 
কোট,টাই আর পায়ে বুট-- 
বিশ্ব তাকেই দেয় স্যালুট ! 
ছবিতেই যে ধ্বংস হওয়া মানবতার গান আছে ! 
 সোমালিয়া , মিয়ানমার -- 
এমন হাজার বেশুমার 
ছবির ধারক নায়ক সেজে নোংরামনেে আলগোছে 
শিয়াল, শকুন তোষণ করে ঠোঁট দিয়ে হায় দায় মোছে !!

Sunday, April 30, 2017

সম্ভবত বোবা হয়ে যাচ্ছি

শাহরিয়ার সোহেল
সম্ভবত বোবা হয়ে যাচ্ছি 
বিগত সাত-আট বছর ধরে নিয়মিতভাবে 
বছরে দু’বার বোবা হই স্বরতন্ত্রী বিকল হয়ে যায় 
কণ্ঠ থেকে বের হয় না কোন শব্দ তরঙ্গ যে কণ্ঠে
 একদিন কবিতা পাঠ আবৃত্তি, 
বক্তৃতার ঝাণ্ডা উড়াতাম সব ক্রমশ স্থবির হয়ে উঠছে 
চুলেও ধরেছে পাক, চোখে চালশে 
চলে যাবার চিঠি এসেছে 
হঠাৎ করেই চলে যেতে হবে পড়ে থাকবে দীর্ঘশ্বাস 
আর ছিটে ফোঁটা সৌন্দর্যের পশরা 
বোবা হয়ে যাচ্ছি ক্রমশ কণ্ঠ অবরুদ্ধ, 
দৃষ্টি সীমিত ভোকাল কর্ড নিস্তব্ধ 
অসহায়ের মতো শুনি 
সবকিছু বলার জন্য বুকের ভেতর জমে উৎক্ষিপ্ত লাভা 
বলতে পারিনা কিছু লিখে চলি কালের কলসে 
অসংখ্য পঙক্তিমালা জানি না তাও 
কখন স্তব্ধ হয়ে যাবে গায়েবী ইশারায়…

Wednesday, April 12, 2017

বৈশাখ

কবি-তাসনিম মেহজাবীন মুমু
বছর ঘুরে আসো তুমি
প্রাণের বৈশাখ,
চারিদিকে পরে যায়
লাল সাদার হাক ডাক।
এই দিনে মেতে ওঠে
সবাই উৎসবে।
ব্যবসায়ীরা নতুন করে
লেখেন হালখাতা,
এই দিনে ভালোবাসি
খেতে ইলিশ পান্তা।
পুরানো গ্লানী ভুলে গিয়ে
জীবনের পাতায় লিখি নতুন কথা,
বরণ করি তোমায়
দিয়ে মঙ্গল শোভা যাত্রা।

Thursday, April 6, 2017

ফিনিক্স প্রাণ

কবি-মাইনুদ্দিন আল আতিক
চল ফিনিক্স পাখি হই দুজনে
উড়ে বেড়াই খোলা আকাশে-
শিকারীর গুলিতে গুলিবিদ্ধ হলে
রক্তের ছিটে ফোঁটায় জাগিয়ে তুলবো
অফুরন্ত তাজা প্রাণ।
.
পৃথিবী জুড়ে গড়ে উঠবে
অগুনিত প্রেম ফিনিক্সের আবাস,
শিকারীরা আজও জানে না
ফিনিক্স প্রাণের কথা।
.
ওরা শুধু রক্তের ঘ্রাণ শুঁকে শুঁকে
শিকারের সাফল্যে সুখ খোঁজে।

Thursday, March 9, 2017

আলোরপোকার সাথেই থাকুন। ধন্যবাদান্তে- আবু সাহেদ সরকার, প্রকাশক ও সম্পাদক

Wednesday, March 8, 2017

রাখাইন কন্যার সন্ধানে

 কবি-মাইনুদ্দিন আল আতিক
 (উৎসর্গঃ রাখাইন বন্ধু ম্রামুনকে]
 
বৈষ্ণবী, তোমায় তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি
প্রতিটি রাখাইন পল্লীতে
বৌলতলী বেতকাটা আমখোলা মোমোপাড়া
অতঃপর মিশ্রীপাড়া পল্লীতে তোমার দেখা মেলে-
সীমা বৌদ্ধ মন্দিরের পার্শ্ববর্তী একটি বস্ত্রালয়ে
ক্রেতাদের সাথে দর কষাকষি করছো;
চেহারায় চিন্তার ছাপ
স্বামী সংসার সন্তান আর ব্যবসায় নিয়ে ব্যস্ত।
অামাকে দেখে চিনলেনা
যেনো খুব অপরিচিত আমি
কোনোদিন দেখোইনি।
.
অামি এক ঝলক দেখেই চিনে ফেলি
তোমার সেই কাজল কালো আঁখি
গোলাপী ঠোঁট ঠোঁটের উপরে কালো তিল
আগের মতোই কামনা জাগায় মনে
অপলক চেয়ে রই চাতক পাখির মতো।
.
ভাবনার তরী বেয়ে হারিয়ে যাই
কৈশোরের সমুদ্র পাড়ে-
দুজনে হাত ধরে হেঁটেছি কেওড়া বনে
কেওড়া কুড়ানোর মোহতায়
কখনো ক্লাস পালিয়ে হারিয়েছি
সোনাতলা নদীর তীরে,
বেলী গাঁদা আর শিউলি গুঁজে দিয়েছি তোমার চুলে
সেই বেনী করা চুলের মধুময় ঘ্রাণ
আজও বিমোহিত করে।
সাদা কাগজে এঁকে দেওয়া
লিপস্টিক মাখা আলতো চুমো
ভেসে ওঠে চোখের পর্দায়।
.
ধমকের সুরে ভাবনার বৈঠা ভাঙে
অই মিয়া কে আপনে?
অমন হা-করে চেয়ে আছেন।
কি লাগবে বলেন?
কাঁপাকাঁপা কন্ঠে অস্পষ্ট কথন
না, কিছুনা।
রগচটা গলে ব্যস্ততার আভাস
কিছু না লাগলে যান
নইলে কিন্তু....
.
ভালোভাবে তাকানোর আহ্বান ছলছল চোখে
পরখ দৃষ্টিতে বিষণ্ণতা তোমার
আরে তুমি এখানে, কিভাবে পেলে আমার খোঁজ?
আবেগে ভেসে যাই দুজন অতীতের মোহনায়।

Thursday, February 23, 2017

একটি কবিতা লেখব

কবি-সাজ্জাদ হোসেন সাখাওয়াত
একটি কবিতা লেখব 
ভালবাসা কবিতার চরন 
ভূমি দুজনর বাঁচার আশা 
কবিতারচয়িতা হবো দুজনে 
পাঠ করবো গুনগুন করে মনে। 
কবিতা বেলি ফুল মাথায় 
প্রভাতী কোকিল হবে
তুমি চা'য়ের কাপে বাষ্পীয় 
ভালবাসায় অচেনা ভোর। 
বেজা চুল শিশিরজলের মতো 
ঝরবে আমার আঁখি পাতে। 
আমার সর্বত কবিতার জন্য 
কবিতার অন্তঃমিলে 
সৃষ্টি হবে ছড়া আমি তো অপেক্ষা 
আছি ঐ মধুর সময়।

Tuesday, February 21, 2017

লাখো সালাম হে ভাষা শহীদ

কবি-সুলতানা সাথী
আকাশে আজ রঞ্জিত লাল 
বাতাসে বারুদের গন্ধ, 
ভাষার দাবিতে বাংলার সন্তানেরা 
মিছিলে মিছিলে তুলে ছন্দ।
মায়ের মুখে ঘুম পাড়ানীর গান 
শুনবে সারা জীবন ভরে, 
তাইতো তারা রুখে দাড়িয়েছে 
অধিকার থেকে যায়নি কো সরে।
 যারা কেড়ে নিতে চায় মায়ের ভাষা 
বাংলার মাটির বুকে চড়ে, 
রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই 
জানাই ক্ষিপ্ত সুরে। 
পুলিশের গুলি আর লাঠির আঘাত 
ফেরাতে পারেনি যাদের, 
বাংলা মায়ের সাহসী সন্তান 
ভাষা শহীদ বলি তাদের। 
জব্বার,সালাম,রফিক বরকত 
আরো কতো না জানা নাম 
একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসে 
জানাই লাখো কোটি সালাম।

চলনা

কবি-এমএইচ প্রিন্স
চলে আসনা সেই সব দুঃখ গুলোকে ভুলি
তুমি ছাড়া যে কষ্টকর কাটানো রাত গুলি 
চলনা প্রেমের পথে আরেকবার পা ফেলি 
মনের খাচায় নতুন করে স্বপ্ন গুলো পালি 
চলনা আবার পুরনো সৃতির খাতাটি খুলি 
জরিয়ে ধরে একটু করে দুঃখ জল ফেলি 
চলনা মনের আকাশে পাখনা দুটো মেলি 
পাখিদের সাথে আবারো ছোয়াছুয়ি খেলি 
চলনা মনের গলি নানা রঙে রাঙিয়ে তুলি 
অন্তত একটিবার ভালোবাসি কথাটি বলি

মাতৃভাষা প্রেম


কবি-মাইনুদ্দিন আল আতিক
আমি অনুভব করছি
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
একুশে ফেব্রুয়ারির রাজপথ
শোষকদের প্রহসন ১৪৪ ধারা।
রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবির হুংকার
সারিসারি সুপারি গাছের মতো
সাহসী বুকে এগিয়ে চলা ছাত্রজনতার ঢল।
আকস্মিক ছুটে আসা বুলেট বিদ্ধ তাঁদের বুক
গড়িয়ে পড়ছে টকটকে লাল তাজা রক্ত
লুটিয়ে পরা দেহের ছটফটানি
হাতে আটকে আছে ব্যানার-প্ল্যাকার্ড
কাকের কা-কা রব আকাশে-বাতাসে।
রফিক সফিক সালাম বরকতের দেহ ত্যাগ করে
প্রাণপাখি পাড়ি জমায় জান্নাতের ঠিকানায়,
রাজপথ ভাসে রক্তের প্লাবনে।
আমি মাটির মমতায় শহীদের আর্তনাদ শুনি
ঘ্রাণ শুকি ভালোবাসায়,
প্রতিবাদী হই মুষ্টিবদ্ধ হাতে
মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায়।

Monday, February 20, 2017

শুভদিন আসবে

কবি-আবুল কালাম আজাদ
 
প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ, প্রতিস্থান-- 
উলঙ্গ উল্লাসে মিথ্যার বান----- 
স্থান-কাল-পাত্র, মান-সন্মান 
ভরে দেয় কেউ দুর্গন্ধে । 
নিকুচি করে সব সভ্যতা, 
কুলকুচি করেযে বাস্তবতা, 
জনতার ওষ্ঠে টিক টিক প্রাণ, 
অপেক্ষা যেন দম বন্ধে। 
স্বেচ্ছাচারী সব কত ভ্রষ্ট, 
সমাজটা করে দেয় নষ্ট ; 
কষ্টের ভয়ে তবু সুশীল কেন 
পড়ে আছে নিয়তই ঘোমটা ? 
দেখে দেখেনা কেন অত্যাচারী, 
নিঃশ্বাস হামেশাই করছে ভারী। 
লাজ-লজ্জার সব মাথা খেয়ে 
নাচে কেউ দিনরাত খেমটা । 
তবু নির্যাতিত মনে আশার আলো 
জ্বলবেই-----দূর হলে মনের কালো, 
ভালমন সকলেই জোট বাঁধলে 
শান্তির সুবাতাস বইবে ।

মূল্যহীন শিক্ষা

কবি-এমএইচ প্রিন্স
লাভ কি হলো কষ্ট করে বিসিএস পাস 
লেখাপড়ার পেছনেই হল জীবন সর্বনাস 
সার্টিফিকেট কি দিয়ে যাবে শুধুই আশ্বাস 
সুশিক্ষায়ও চাকুরি নেই এ কেমন উপহাস 
লাভ কি হলো শুনে স্যারের বক বক 
সুশিক্ষা অর্জন তো আর নয় সবার শক 
ক্যারিয়ার যদি গড়ত সদা বোর্ডের চক 
দারে দারে ঘুরে জীবন হতো না নড়ক 
লাভ কি হলো এই সুশিক্ষা অর্জন করে 
সুশিক্ষিত মানুষও এখন অনাহারে মরে 
শিক্ষার মেরুদন্ড আজ ভাঙা নানান বাহারে 
শিক্ষার মূল্য দাও এটাই আশা সবার তরে

Friday, February 10, 2017

সময়ের স্রোত ধারা

লেখক-সাজ্জাদ হোসেন সাখাওয়াত
বাড়ীর উঠানে অনেক ফুল ফুটেছে। অপলকে আমি তাকিয়ে ফুলের দৃশ্য দেখি।হঠাৎ শিমুল বলে" তাকিয়ে আর কি লাভ কাল ঝরে পড়ে সৌন্দর্যরূপ নষ্ট হয়ে যাবে"।আমার মনে হলো আমিও ঝরা ফুলের মতো,কত না সুন্দর ছিল জীবনের চলার পথের সময়। 
- মনে পড়ে রাজধানীর কোন সস্তা হোটেলে উন্নত খাবারের কথা।আমি, সুনীল, নিতাই, বাবু চায়ের টেবিলে মজার গল্পের জড তুলার কথা।বাবু বলতো, তুই আর কত লেখবি গল্প-কবিতা এবার বন্ধ কর।নিতাই সবসময় ছিল বাস্তবিক, শুধু ভাবতো কি করে রজনী চালাবে। সুশীল ছিল লটারি প্রিয় ভাগ্যর উপর ছেড়ে দিতো জীবনের লক্ষ। সবাই মিলে বসলে ঘড়ির কাটা আমাদের রেখে চলে যায়।দিরাম ওয়েটার প্রতিদিন খাবার সার্ফ করতো।দিনেদিনে দিরাম কাকা আমাদের পরিচিত হয়ে গেল। 
- আজ এই ক্লান্ত বিকালে মনে পড়ে সুশীলের কথা।সেই বলে ছিল,তোর লেখা কখন প্রকাশ হবে?আমরা পড়তে পারিনা। জানিস আমার শখ তোর লেখা একটি বই আমার কাছে রাখতে। যখন তোদের মনে পড়বে তখন পড়বো।
- লেখা আজ প্রকাশ হলো কিন্তু সুশীল আজ লন্ডনে ।শুনছি সে নিস্তব্ধ পথের যাত্রী। খাওয়া -দাওয়া বন্ধ প্রায়।নিঃশ্চুপ থাকে প্রায় সবসময়।লিভার নষ্ট হয়ে গেছে হয় তো নিতাই মতো চলে যাবে না ফেরার দেশে। 
-- নিতাই আমার বাসায় এসে ছিল কয়েক বছর আগে।বিকালে চায়ের কাপে আড্ডা বসে আমার বাড়ীর ছাদে ।আমার দিকে ছেয়ে পেল পেল করে কাঁদতে শুরু করে। আমি বলি বোকার মতো এমন করছ কেন। নিতাই বলে,বড়দা, মেজদা মরেছে ডিসেম্বর মাসে ।তাই ডিসেম্বর মাসকে ভয় লাগে । আমি বলি ভগবান তোঁদের কি একই দিন সৃষ্টি করেছে, বোকার মতো সব কিছু। নিতাই বলে তুবও প্রতিনিয়ত ভয় করে দোস্ত। 
- কয়েকমাস হলো পরলোকগত হল নিতাই। মার্চ মাসে মৃত্যুর টিকেট কাটল।নিতাই কত না বাসনা ছিলো, এবার সুনীল দেশে ফিরলে আবার সবাই মিলে রাজধানী ঐ রেস্তোরাঁ আড্ডা দিবে, দরকার হলে দিরাম কাকা কে নিয়ে আসবে।দিরাম কাকা আজ হয়তো বৃদ্ধ হয়ে গেছে। সেও আজ হয়তো পাঞ্জা লড়ছে মৃত্যুর সঙ্গে। 
- বাবু হারিয়ে গেছে অনেক আগে।পৃথিবীর অভাবের দরিয়া তাকে হার মানিয়ে দিলো। বি,কম পাশ করে ছুরালী উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষাগত পেশা যোগ দেয়।প্রথম দিকে আসতো এর পরে আর আসে না। 
-- হঠাৎ একদিন নিতাই আর সুনীল বলে উঠলো, চল সবাই মিলে বাবুর গাঁয়ে ঘুরে আসি।আমি না করলাম না।তিনজনে একটি টেক্সি করে যাত্রা শুরু করি। সুশীল আগের মতো সিকেরেট টানে নিতাই খালি কন্ঠে গান ধরে। 
- আমরা গিয়ে জানতে পারি বাবু মাষ্টার নামে কেউ এই গাঁয়ে থাকেনা।হতাশা নিয়ে চলে আসার সময় দিরাম কাকার সাথে দেখা,আমার কন্ঠ শুনে বলে উঠে,"কে কবি না কি?"আমরা দিরাম কাকা কে ছিনতেছি না।চুল সব বকের মতো সাদা হয়ে গেছে।বড় একটি চশমা চোখে ঝাপসা দেখে, আমার কন্ঠ শুনে বলে দিয়েছে আমার নাম। 
- সুনীল বলে দিরাম কাকা বাবু কোথায় জানেন। দিরাম কাকা বলে, বাবু কে কাবু করেছে সমাজ।নিতাই বলে সব খুলে বলেন কাকা,শুন তাহলে। বিদ্যালয় ক্লাস করার মতো কিছু নাই। উপজেলা T U N O সাথে দেখা করে বাবু। সবাই মিলে বসে সিদ্ধান্ত নেয়, গ্রাম থেকে চাঁদা তুলে বিদ্যালয় কার্যকর্ম চালাবে। বাবু মাষ্টার চাঁদা তুলার দায়িত্ব পায়।প্রচুর চাঁদা উঠে,গাঁয়ের বধূ কন্যারা হাতে বালা বিক্রম করে চাঁদা দিয়েছে।সব চাঁদা টাকার প্রধান শিক্ষক কে দিয়ে দেয় বাবু মাষ্টার। সব ঠিকঠাক যাচ্ছিল। 
- হঠাৎ গাঁয়ে একদিন ভোরে স্বর উঠে,সবাই তড়িৎ গতিতে ছুটে চলে বাবু মাষ্টারের ঘরে ।তার গৃহে এক সুন্দরী রমনীর লাশ পাওয়া গেছে। গ্রামের অামজনতা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে, প্রধান শিক্ষক কৌশলে বাবু মাষ্টার কে গ্রাম পালাতে সাহায্য করে।বলতে বলতে কেঁদে দিলো দিরাম কাকা , হতছড়া সেই যে গেল আর একবার আসে নাই। বাবু মাষ্টার চলে যাওয়ার পরে আবার স্কুলে অনিয়ম শুরু।বুঝতে বাকি নেই কারা এক কাজ করেছে। গাঁয়ের ছেলেরা মদের আড্ডায় পরিণতি করেছে বাবু মাষ্টারে ঘরটাকে। 
- দুঃখ ভারাক্রান্ত র্হদয়ে আমরা চলে আসি।যাচ্ছিল সময় সুনীল আবার বিদেশে পাড়িদেয়, নিতাই চলে যায় কর্মক্ষেত্র। একদিন মাগরিবের নামাযের সময় বাসায় কোলিং বেলে টিং টিং শব্দ করে। নামায পড়ে দেরী হয়ে যাওয়া দরজার সামনে কাউকে দেখি নাই। দরজার এককোণে নতুন একটি চিঠি পাই।চিড়ে দেখি ভিতরে আরেকটি খামে বছর দশেক আগের হবে এমন একটি চিঠি। প্রথম চিঠি লেখেছে পোষ্ট মাষ্টার,/ জনাব সালাম নিবেন এই চিঠি এসেছিল প্রায় দশ বছর আগে কিন্তু কোন অসাবধানতার কারনে আপনার নিকট চিঠি পৌঁছাতে পারি নাই তাই আমরা অান্তরিক দুঃখিত। আজ পুরাতন আলমারি পরিষ্কার করার সময় আপনার চিঠি আমাদের হাতে পাই এবং আপনার নিকট পাঠাই। 
--- ------------ বুঝতে পারলাম চিঠি অনেক আগের ।খুলে দেখি প্রেরক বাবু মাষ্টার আমার চোখে অশ্রু ঝরছে তখনি যখন বাাবুর লেখা চিঠি দেখি, ,,বাবু লেখেছে:
--- দোস্ত পৃথিবীর উপরে হয়তো সময় বেশি নাই।কারন ডাক্তার মশাই নিষ্ঠুর কন্ঠে জানিয়ে দিয়েছে তিন মাসের মাঝে বিদায় নিতে হবে।বড্ড মিস করি ত্রিপুরা দাতব্য হাসপাতের ১০৪ নাম্বার কেবিনে শুয়ে।তোদের মনে পড়ে প্রতিটি নিঃশ্বাসে।যদি চিঠি হাতে যায় সুনীল আর নিতাই কে নিয়ে চলে আসিস।যাওয়ার আগে তোদের শেষ দেখা দেখতে চায় মন।এই দাতব্য হাসপাতালে হয়তো রাজধানী সেই রেস্তরাঁ মতো পরিবেশ নাই তাতে কি আমরা বন্ধুরা যেখানে যাই সেখানে তো রেস্তরাঁ তৈরিহয়।আসবি আসা করি,সুনীল আর নিতাই কে মনে করে বলে নিয়ে আসিস।আমি তোদের দেখার অপেক্ষা আছি,আবার সেই রাত্রিচরী হবো। ইতি:-(বাবু) 
-- ঐদিন সন্ধ্যায় কেঁদেছি অনেক চিৎকার করে কেঁদেছি, ইচ্ছে মতো অশ্র ঝরালাম দুই নয়নে।আমার কাছ থেকে এইভাবে ঝরে গেলো সব কোমল মনের মানুষেরা ।বাড়ীর উঠানের ফুল গুলা হয় তো ঝরে পড়বে গভীররাত্রিতে ।যদি একটা ফুল থেকে যায় তখন সে বুঝবে আমার এই অন্তঃ দহনের আত্মনাদ ।মসজিদের মাইকে আযান এশার শুনা যাচ্ছে, অযু করে নামায পড়ব।এর পরে আবার ভাববো দুষ্ট বন্ধুদের।

Thursday, February 9, 2017

সকলের তরে শান্তি চাই

কবি-আবুল কালাম আজাদ
আঁধারের সাথে প্রতি রাত্রি হলে
নয়নের জলে কত আগুন জ্বলে!
হতভাগা যত সবই কারো সন্তান,
যারা কর্মের পায়না দাম-প্রতিদান,
জ্বলন্ত স্বপ্ন যারা পুড়ে করে ছাই ,
একই প্রভুর সৃষ্টি তারা
অভাবের কশাঘাতে দিশেহারা
আমাদের মতই কারো বোন-ভাই ||

স্বপ্ন চুড়াতে কত স্বপ্নগাঁথা---
কেউ কি ভেবেছে তার পিছনে আছে ,
কত বঞ্চিত মানুষের মর্মগাঁথা ?
লক্ষ আশায় কত বক্ষ কাঁপে,
নিরজনে গোপনে মন পুড়ে ছাই।
হৃদয়ের আয়নাতে দেখ বন্ধু,
তারাও কারো ধন, কারো সন্তান,
বাপ-মা কারো আর কারো বোন- ভাই ||

কার ধন কে খায় দেখবে কা তা'
কত নেতা বলে কত বড় যে কথা।
অনেকেই চুষে খায় শিকড় ও মাথা।
যার বুকের মাঝে জ্বলে ধ্বংস-অনল
যে অনলে তুমিও হতে পার ছাই ||
তাই বলি এসো ওগো বন্ধু,
সুখে-দুখে সকলেই হই একাকার,
সকলের তরে আজ শান্তিটা চাই ||

Wednesday, February 8, 2017

মনের আগুন

কবি-আবুল কালাম আজাদ
মনের আগুন জ্বলে দ্বিগুণ
জল ছিটিয়ে দিলে ,
দুঃখগাঁথা রুক্ষ্ম করে
সুখ কেড়ে নেয় চিলে ।
সাতসাগরের যত জল
দুই চোখেতে ছলোছল।
বল দিয়ে তো কল চলে না
কায়দা বিকল হলে ।

রূপসী বাংলা আমার

কবি-শেখ বিপ্লব হোসেন
রূপসী বাংলা আমার, তুমি যে রূপে অনন্যা, 
 তোমার গগনে রূপালী চাঁদ,ছড়ায় আলোর বন্যা। 
সাগরনদী, ঝর্ণাপাহাড়, জুড়ায় সবার আঁখি, 
তোমার বুকে স্বপ্নকুড়াই, দেখে হরেক পাখি। 
সবুজ শ্যামল তোমার বুকে, সোনা ফসল দোলে,
তোমার প্রেমে কৃষক-শ্রমিক, দুঃখব্যথা ভোলে। 
সবুজ শীতল ছায়া যেন, তোমার শাড়ির আঁচল, 
জোনাকজ্বলা আঁধাররাতে, হৃদয়ে লাগে দোল। 
সবার প্রিয় জন্মভূমি, প্রীতি দিয়ে ঘেরা, 
আদর-স্নেহ-মায়ায় গড়া, তুমিই সবার সেরা। 
কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে, তোমার কোমল অঙ্গে, 
স্বার্থক হলো জন্ম আমার, জন্মেছি এই বঙ্গে।

Tuesday, February 7, 2017

প্রেমের উপপাদ্য

কবি-মাইনুদ্দিন আল আতিক
                                                    হাজার ব্যস্ততা ক্লান্তি আর অবসাদ 
                                                    দূর হয় তোমার এক টুকরো হাসিতে 
                                                    আমি মাতাল হই তোমার রক্তজবা ঠোঁটের স্পর্শে, 
                                                    ছলাৎ ছলাৎ ছন্দে বয়ে চলে কবিতা 
                                                                                 হৃদয়ের এপিঠ ওপিঠ। 
                                                    আমার নীথর দেহ জেগে ওঠে তোমার পরশে 
                                                    হারানো স্নায়ু শক্তি ফিরে পাই 
                                                    তোমার এক ঝলক হাসিতে।
                                                    তোমার কাজল কালো মায়াবী নয়নের মাঝে 
                                                    খুঁজে পাই হাজারও রঙিন স্বপ্ন 
                                                    উচ্ছাসিত পূর্ণিমা রাতের আকাশে তাকিয়ে 
                                                   মুছে ফেলি অপ্রাপ্তির আর্তনাদ। 
                                                   জোসনাস্নাত হৃদয় মেতে ওঠে 
                                                   তোমার মায়াবী সুরের উল্লাসে 
                                                   মোহিনী মায়ায় তুমি আমার নতুন কল্পনা। 
                                                   বাঁধতে চাই আমার পিঞ্জর তোমার বুকের আঁচলে 
                                                   রংধনু প্রেম-প্রেম খেলা করে স্মৃতির দরোজায়। 
                                                   নান্দনিক ইচ্ছেরা জেগে ওঠে মনে- মনে 
                                                  ডুব সাতারে হারিয়ে যাই তোমার মাঝে।