Monday, June 11, 2018

মেঘের পালক ।। ইউসুফ আউলিয়া

আকাশের বুক চিরে নামে ঝুমুরঝুমুর বৃষ্টি,
কুয়াশার ভাজ অন্ধকার ঘর যায় না মেলা দৃষ্টি। 
বৃষ্টিরা আজ খই ভাজে দ্যাখ্ টিনের চালের পরে,
দমকা বাতাস আঘাত হানে দুখিনি মার ঘরে।
গাছ গুলো দ্যাখ্ কেমন করে জলের ছোঁয়ায় হাসে,
শিকড় বাকল মাটির টিলা বৃষ্টি জলে ভাসে।
খাল বিল ডোবা নদী নালা ভরে যাচ্ছে জলে,
ব্যাঙেরছাতা ভেসে গেলো জলের রাশির দলে।
মুখ খুলেছে গোলাপ জবা মেঘের কানাকানি,
গোলাপ জানে তারি সুখ ভাই আমরা কি সব জানি?
উচাটনে মাছের খেলা জলের স্রোতে আসে,
পুটি মাছের গায়ে দেখো সিঁদুর টানা ভাসে।
কাঁথার বুকে লুকিয়ে পড় ওরে দস্যি ছেলে,
এখন যাসনে বাহিরে তুই দ্যাখ্ জল কেমন খেলে।
কলার পাতা ঝড়ে চিরে হাওয়ায় ওঠে দুলে,
পাখির বাসা জলে ভেজে দাঁড়াবে কোন কূলে ?
মেঘের পালক ঝরে পড়ে বাংলার উঠান জুড়ে,
বৃষ্টির জলে মাটি চিরে ওঠে বৃক্ষ ফুঁড়ে।
সবুজ ঘেরা গাছের পরে ডানা মেলে আকাশ,
জলে ভাসে কদম ফুলের মিষ্টি লাগা সুবাস।
বার বার আসুক মেঘের পালক আকাশের বুক বেয়ে,
চাষির মুখে ফোটে হাসি বৃষ্টির ছোঁয়া পেয়ে।

Tuesday, May 29, 2018

গভীর কালো ।। আবু সাহেদ সরকার

চুপসে যাওয়ার দিনকি তবে এলো ফিরে!
আলো এখন গভীর কালো হৃদয় ঘিরে।
যখন-তখন তাকাই ফিরে তোমায় ভেবে,
হয়তো একটু সুখের অংশ আমায় দেবে।

Wednesday, May 23, 2018

অনন্ত যাত্রা

কবি-মাসুদ পারভেজ
সেদিন এই চোখে আর সকাল হলো না,
চোখ হাত পা দেহ তোমাকে খুঁজল না।
সংসারে থাকার অধিকার হারিয়ে ফেলায়
শেষ ঠিকানা গোরস্থানের কোন এক কোণায়।
-
শূণ্য বিভীষিকাময় তিমির রাত্রির ঘরে,
ব্যস্ত যাপিত জীবনের সব হিসেব নিয়ে।
তোমাদের আকাশে যখন মেঘ রিমিঝিমি বৃষ্টি ,
আমার চারিপাশে অভিশাপ্ত আগুন আর আগুন;
আমি জ্বলছি আর জ্বলছি;
অসহায়ত্বের চিৎকার তোমাদের কানে পৌঁছেনি;
তোমাদের হাসি থামেনি।
-
তোমাদের কে অবহেলা আর অপূর্ণতার দীর্ঘশ্বাস_
বিষাক্ত সাপের একেকটি ছোবল,
প্রবল আজাবের হাতছানি ।
আমি জানি,আমি কখনোই ক্ষমার যোগ্য নই।
-
তবে তার তরী নেই, যার তীর নেই, কুল নেই।
মুকুলে যার ধরেছে অসুখ, কিসে তার সুখ।
এপার ওপার কেহ নেই তার একটু সুখ সাধ বার।
-
আমি তোমার ছিলাম না, তোমাদেরও না;
নিয়মের ছিলাম না, কখনো নিয়মেও না।
এপার ওপার কেহ নেই, নেই বা কোন মাত্রা,
অনন্ত অভিশাপ নিয়েই আমার অনন্ত যাত্রা।

Tuesday, May 15, 2018

দখিন হাওয়া


কবি-ইউসুফ আউলিয়া
বেলা নেমে এলো আঁধার ছেয়েছে আমাদের এই ঘরে,
দখিন হাওয়া কেঁপে কেঁপে ওঠে নিভে যায় বাতি ডরে। 
প্রজাপতি পরি দুটি পাখা মেলে ছুটে চলে দলে দলে, 
চোখে পড়ে ছায়া আকাশের মেঘ আমাদের কালো জলে। 
ধানের গন্ধে হৃদয়টা ভরে আকুল ব্যাকুল মন, 
দূর পথে হাঁটি বুকে চেপে মাটি এমনি কাটুক ক্ষণ। 
দখিন হাওয়া নিয়ে যাও কথা দিও তা প্রিয়ার কাছে, 
জোনাকির আলো নাহি খেলা করে শূন্য স্বপন নাচে। 
রাখালের মুখে আমি শুনি গান হিয়াতে পাওয়া দুখ, 
আমারি মতন তার বুঝি হায় আঁড়ালে প্রিয়ার মুখ। 
দখিনের বায়ু ছুটে চলে বেগে মেঘের পাহাড় নিয়ে, 
আমি চেয়ে দেখি আকাশের গায়ে মেঘে থাকে বুঝি পিয়ে। 
চোখ পেয়ে জল দেহ পরিমল ভেজে বরষার মতো, 
ও মেঘের ব্যথা নেমে আয় বুকে তোরি দুখ নিয়ে যতো।

Thursday, May 3, 2018

ধিক্কার

কবি-ইউসুফ আউলিয়া
হাজার বছরের ব্যথা বুকে ধরে চুপ ছিলাম, 
কিন্তু আর না তোমার অত্যাচারে আমি জর্জরিত 
 হে মহা বৃক্ষ ; তোমার শাখা-প্রশাখার ছত্রছায়ায় 
কে আমার ভাগ্যটা লিখল এমন করে? 
হে মহা বৃক্ষ ; তুমি বৃহৎ আমি ক্ষুদ্র আমি 
তোমার অত্যাচারে জর্জরিত 
কোন পথিক এলে বসে তোমার ছায়া তলে 
আর পাতা ছিঁড়ে নিয়ে যায় আমার 
বল তুমি যদি না থাকতে পথিক কি আসতো? 
আর আমাকে ক্ষতবিক্ষত হতে হতো না। 
তোমার জন্য আমি সূর্যের উত্তাপ ছিটেফোঁটাও পায়নে, 
আমার অধিকার থেকে আমি বঞ্চিত অপুষ্টি বাসা বেঁধেছে 
আমার সারা অঙ্গ জুড়ে, 
আমার দিন শুরু হয় তোমায় দেখে সন্ধ্যা আসে তোমায় দেখে 
অথচ তুমি দেখতে পাও বিশাল আকাশ চন্দ্র সূ্র্য গ্রহ তারা নক্ষত্ররাজি 
তোমার অঙ্গ থেকে পাতা খসে পড়লেও সেটা আমার ওপর বর্তায় 
বৃষ্টির জলে তুমি যেভাবে স্নান কর সেটাও আমি পারিনে, 
পারিনে তোমার মতো সারানিশি শিশির জলে ভিজতে 
তারা ভরা জ্যোৎস্না আকাশ দেখতে। 
হে মহা বৃক্ষ ; তুমি কি এ কথা জানো? 
" বেশি বাড়লে ঝড়ে ভাঙে..." 
তুমিও ভাঙবে যে দিন তুফান উঠবে হবে এক মহাপ্রলয় 
তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে, 
তুমি হারিয়ে যাবে গভীর সুমদ্র স্রোত ধারায়। 
তোমার প্রতি এই আমার চরম ধিক্কার সেই দিন নেব আমি 
বুক ভরে একটু স্বস্তির নিশ্বাস।

Thursday, April 19, 2018

তুমি হীনা আমি


কবি-ইউসুফ আউলিয়া
হৃদয় রাঙিয়া চলে গেলে তুমি দূরপর দেশে কবে, 
আমি পুড়িতেছি বিরহ জ্বালায় এমনি পুড়ি গো তবে। 
 পথ হারা হয়ে তুমি আমি আজ সর্বহারা দু'কূলে, 
আমি যে ছিলাম তোমারি নয়ন সে কথা গিয়েছো ভুলে ? 
তোমারি অরুণ রাঙা হাত দুটি রেখেছিলে হাতে সখি, 
বুঝিনি সেদিন রাঙা রেখা হাত জল এনে দেবে চোখি। 
উত্তর বায়ু যায় বয়ে একা পাইনে সুবাস আর, 
দিলখানি নিয়ে অন্তর ভরে ব্যথা দিলে উপহার। 
কেশের সুবাস ছুটে নাহি আসে আমার নাকের দোরে, 
মনে হতো রোজি লেবু ফুল ফোটে কোন্ হাওয়ায় ভোরে। 
আমারে কাঁদিয়া সুখের আদরে থাকো তুমি বড় সুখে, 
বুঝিলাম শেষে সুখ নেই প্রেমে তাই আমি মরি দুখে। 
আমি যদি আগে বুঝিতাম ইহা মারবে আমায় ছলে, 
নাহি পড়িতাম প্রেম দরিয়ায় ভাসিতাম কি গো জলে? 
দিন আসে যায় রাত পিছু ধায় এমনি সময় কাটে, 
দিন গুনি আমি কবে যে উঠিবো মরনের মরা খাটে। 
নয়ন ছিড়িয়া জল পড়ে গড়ি নাহি পারি দিতে বাঁধ, 
তোমারি সহিত হৃদয় মিলিয়া মিটিলো গো প্রেম স্বাদ। 
বসি গাছ তলে পাতাগুলো ঝরে আমারি কাঁদনে হাই, 
কাঁদে পাখি ফুল জল ভরা কূল তুমি নিষ্ঠুর তাই। 
যাবে যদি চলে কেনো এসেছিলে দুই হাতে নিয়ে প্রেম, 
হৃদয় কাঁড়িয়া নিঃস্ব করিয়া খেলে গেলে শুধু গেম।

Monday, April 16, 2018

শোনো মেয়ে


কবি-সাইদুল ইসলাম
একলা আমি চলছি পথিক 
জীবন চলার পথে, 
কাউকে খুঁজিনি ও মেয়ে 
তুমি এসো রথে। 
আকাশ ভরা স্বপ্ন দিব 
দিব ভালোবাসা, 
আঁধার রাতে জোৎস্না সাজবো
পূর্ণ করব আশা। 
নিশিরাতে গল্প করব 
তুমি আমি দু'জন, 
আদর করে দিব চুমি 
ফুল সজ্জায় সজন। 
আউলা কেশে বাউল সেজে 
আমি হবো সুর গান,
রিমঝিম সুরে গান শোনাব 
রাঙাব মেয়ে মন প্রান

Tuesday, April 3, 2018

পাহাড় ও মেঘের কথোপকথনঃ শিশু ধর্ষণ

লেখক-সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান

কিছু মেঘ দলবেঁধে গান ধরে আকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এক সময় হঠাত্ একটা মেঘ একটি পাহাড়ের চূঁড়ায় এসে ধাক্কা খেল। মেঘ পাহাড়ের কাছে বিনয়ের সাথে ক্ষমা চাইলে, পাহাড় খুব গম্ভীর ভাবে হেসে ক্ষমা করে দিল। মেঘ তখন সাহস নিয়ে পাহাড়ের সাথে গল্প করা শুরু করলো।
মেঘঃ ও পাহাড় ভাই, কেমন আছো তুমি?
পাহাড়ঃ এই তো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছি। তুমি নিশ্চয়ই বেশ ভালোই আছো। মনের আনন্দে গান গেয়ে ভালোই তো ঘুরে বেড়াচ্ছো।
মেঘঃ হুম, তা ঠিক বলেছো কিন্তু তোমার গলায় কেমন যেন অভিমানী সুর। তোমার কি হয়েছে বলো?
পাহাড়ঃ কি বলবো বলো, দিনে দিনে আমার ভূপৃষ্টের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে কিছু মানুষ, দাঁড়িয়ে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
মেঘঃ তোমার কথা শুনে খুব কষ্ট পেলাম। তবুও তোমার সময় কাটে ভালো। তোমার সমস্ত শরীর জুড়ে সবুজ অরণ্য, কতো গাছগাছালি, কতো পশুপাখি, কতো গান আর কতো সুর, আহা.. তোমার কি আনন্দ...
পাহাড়ঃ হা হা হা... সেটা অবশ্য ঠিকই বলেছো কিন্তু ওই যে কিছু মানুষের কথা বললাম। ওরা শুধু মাটি কেটে নেওয়া পর্যন্ত ক্ষান্ত হয়নি। দিনে দিনে আমার গাছগাছালি কেটে উজাড় করে দিচ্ছে, পশুপাখি গুলো মেরে ফেলছে। মাঝেমধ্যে আমার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়, পশুপাখি গুলো পালিয়ে যাচ্ছে আরও গহীন অরণ্যে। আমিও ওদের বিদায় দিচ্ছি, মানুষের কাছে থেকে দূরে গিয়ে বাঁচুক।
মেঘঃ সত্যি তোমার কথাগুলো শুনে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেছে। মানুষ যে কতোটা নিষ্ঠুর, কতোটা নির্মম, ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। আচ্ছা, এই নিষ্ঠুর মানুষদের সম্পর্কে কিছু বলো।
পাহাড়ঃ এদের সম্পর্কে কি বলবো বলো, লজ্জা..!! লজ্জা..!! লজ্জা..!!
মেঘঃ কি হলো পাহাড় ভাই, তোমার চেহারা এভাবে ফ্যাকাশে হয়ে গেল কেন?
পাহাড়ঃ মানুষ সম্পর্কে কোন প্রশ্ন করো না মেঘ, আমার ভীষণ কষ্ট হয়। কি বলবো ওদের কথা, কতো অন্যায় অবিচারের সাক্ষী হয়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছি।
মেঘঃ তবুও তুমি বলো, আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে। এই মানুষদের অন্যায় অবিচার থেকে আমরাও রেহাই পাচ্ছি না। ওদের কারণে দিনে দিনে আমাদের পরিবেশ সাংঘাতিক রকম দূষিত হয়ে যাচ্ছে। তাই এই মানুষ গুলো সম্পর্কে জানতে চাই।
পাহাড়ঃ বেশ, তবে শোন। আমি ওদের হাজার হাজার অন্যায় অবিচার দেখেছি আর নীরবে সহ্য করে গেছি। এই তো, কিছু দিন আগের একটা রাতের ঘটনা বলি, শোন তবে।
মেঘঃ হ্যাঁ, আমিও খুব অধীর আগ্রহে বসে আছি, শুরু করো। ওই রাতে কি হয়ে ছিল?
পাহাড়ঃ হঠাত্ করেই মাঝ রাতে একটি বাচ্চা মেয়ের চিত্কার করা কান্না শুনে ঘুম ভেঙ্গে গেল।
মেঘঃ বাচ্চা মেয়েটির কি হয়ে ছিল পাহাড় ভাই?
পাহাড়ঃ উহ্, কি বলবো তোমাকে, লজ্জা..!! লজ্জা..!! লজ্জা..!!
মেঘঃ ধেত্, আসল ঘটনা বলতো তুমি, সেই কখন থেকে বসে আছি। কি হয়ে ছিল ওই বাচ্চা মেয়েটির সাথে?
পাহাড়ঃ আমার ঘুম ভাঙতেই দেখলাম কিছু নরপিশাচের দল ওই বাচ্চা মেয়েটিকে উলঙ্গ করে পালা ক্রমে ধর্ষণ করে যাচ্ছে। খুব সুন্দর পরীর মতো চেহারা বাচ্চা মেয়েটি চিত্কার করে কান্না করে যাচ্ছে আর বারে বারে জ্ঞান হারাচ্ছে।
মেঘঃ কি বলছো পাহাড় ভাই...!!! এটাও কি সম্ভব...!!! বাচ্চা মেয়েটির কান্না শুনে ওদের কি একটুও দয়া মায়া হয়নি???
পাহাড়ঃ ওদের আবার দয়া মায়া, হেহ্... বাচ্চা মেয়েটি যতোই চিত্কার করে কান্না করে যাচ্ছিল, ওরা তখন আনন্দে উল্লাসে মেতে উঠে ছিল।
মেঘঃ তোমার কথাগুলো শুনে মানুষের উপর প্রচন্ড রকম ঘৃণা জন্মে গেছে। যাইহোক, তারপর কি হলো বলো?
পাহাড়ঃ বাচ্চা মেয়েটির তলদেশ দিয়ে রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছিল আর সেই রক্ত দিয়ে ওরা হোলি খেলা করে ছিল। আর বলতে পারছি না মেঘ, আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।
মেঘঃ আমার চোখে পানি চলে এসেছে, তবুও শুনতে চাই। দয়া করে আমাকে পুরো ঘটনাটা বলো, যতোই কষ্ট হউক তোমার। বাচ্চা মেয়েটির সাথে শেষ পর্যন্ত কি হয়ে ছিল?
পাহাড়ঃ বাচ্চা মেয়েটি এক সময় থেমে গেল। আর কোন শব্দ করছে না। নিথর শরীর আমার বুকে রেখে শুয়ে রইলো কিন্তু তখনও অত্যাচার অব্যাহত ছিল। এক সময় নরপশু গুলো ক্লান্ত হয়ে গেল। তখন বুঝতে পারলো, বাচ্চা মেয়েটি এখন মৃত।
মেঘঃ উফফঃ কতোটা নিষ্ঠুর... কতোটা নির্মম... তুমি ঠিকই বলেছো, ওরা মানুষ নয়, ওরা পশু। তারপর কি হলো বলো???
পাহাড়ঃ ওদের চেয়ে আমার পাহাড়ি পশু গুলো ঢের ভালো। ওরা হচ্ছে নরপশু, সবচেয়ে নিকৃষ্ট পশু।
মেঘঃ হ্যাঁ, তা তো বটেই। যাইহোক, তারপর কি হলো???
পাহাড়ঃ তারপর ওরা মেয়ে বাচ্চাটিকে আগুনে পুড়িয়ে চলে গেল। পরীর মতো সুন্দর ফুটফুটে বাচ্চা মেয়েটির শুধু কঙ্কাল টুকু অবশিষ্ট রইলো।
মেঘঃ সত্যি, তুমি ঠিক বলে ছিলে, লজ্জা..!! লজ্জা..!! লজ্জা..!! এই ঘটনা শুনে আমার চিত্কার করে কান্না করতে ইচ্ছে করছে। ইচ্ছে হচ্ছে বজ্রপাত করে এর প্রতিবাদ করি।
পাহাড়ঃ তবে তাই করো। আমি হয়তো পারছিনা কিন্তু তুমি চাইলে পারবে মেঘ, তুমি পারবে, অবশ্যই পারবে।
মেঘঃ একদিন আমাদের এই সুন্দর পৃথিবী ধ্বংস হবে এই মানুষ গুলোর অন্যায়, অবিচার ও অত্যাচারে। যাইহোক, আজকে গেলাম, তুমি ভালো থেকো।
পাহাড়ঃ হুম, একদম ঠিক বলেছো। আমার আর ভালো থাকা, জানিনা কতো দিন দাঁড়িয়ে থাকতে পারবো। তুমিও ভালো থেকো।

Tuesday, October 17, 2017

মানুষ জাতেই দ্বন্দ্ব

কবি-জি.এম সুমন
পশু পাখি অতি সুখি
যদিও থাকে বনে...
তবে তারা দুঃখ ছাড়া
অহংকার নাই মনে ।
ধর্ম জাতের হয়না লড়াই
লেনদেন ও নাই টাকা,
সুদ ঘুসের দ্বার ধারে না
করতে দালান পাকা ।
নিজের মতে উড়ে ফিরে
কয়না কারো মন্ধ,
হিসেব কষে দেখি শেষে
মানুষ জাতেই দ্বন্দ্ব।

Wednesday, October 4, 2017

আশাবাদী হও

কবি-আবুল কালাম আজাদ
হতাশ জীবন হিংস্র,
কখনো হয় ভয়ংকর,
ডাকাতরূপ দুর্ধর্ষ,
মৃত্যুসম এক শংকর !

নিরাশ মানেই দগ্ধ,
অনলের মাঝে অঙ্গার,
আঁধারেই সমৃদ্ধ,
হয়ত তা কুলাঙ্গার ।

আশাহত মন নষ্ট,
মৌকাননের ঝরাফুল,
কুল হয় যার ভ্রষ্ট,
নাপিতের ক্ষুরে ছাঁটাচুল !

ভুলের শঙ্কা ভয়ানক,
নষ্ট করে তা উদ্যম ।
সুকুমার মন আচানক
করে ফেলে হতোদ্যম।

আশাবাদী হও বন্ধু
জীবনের মহাসাগরে,
পার হতে মহাসিন্ধু
প্রত্যয়ী হয়ে জাগোরে ।

Friday, September 22, 2017

হে স্বাধীনতা

কবি-আবুল কালাম আজাদ
স্বাধীনতা তুমি আসোনি এখানে অকষ্মাাৎ ,
তবে কেন আজ যাচ্ছো হয়ে ধুলিস্যাৎ ?

স্বাধীনতা তুমি তারুণ্যভরা উচ্ছাস,
স্বাধীনতা তুমি শান্তিকামীর বিশ্বাস।

স্বাধীনতা ওগো নীতির নিত্যানন্দ,
তুমি আমাদের সামনে চলার ছন্দ ।
হোকনা সকল বেহায়া বিবেক অন্ধ,
কেন হবে আজ নীতির দুয়ার বন্ধ ?

অন্ধরা আজ খায় যদি সব মজ্জা,
চাইনা তোমার লোক দেখানো সজ্জা,
খুলতে হবে বন্ধ সিংহ দরজা ।

শোনোনা কেন নির্যাতিতের চিৎকার,
ভয় নাই ঐ অসজ্জনের ফুৎকার,
চায় যারা হায় নিত্য তোমার সৎকার ।

তোমাকে আমরা দেবোনা হতে সঙ্গিন,
একদিন দিন হবেই হবে রঙিন ।

নিরন্তর কত আর স্বপ্নভঙ্গ ,
দেখবোনারে কোনোই
তোতারঙ্গ।

ধ্বংস সমাজ দেখবি কেন আধমরা ?
হতাশ-বাতাস তুলুক না ঝড় মর্মরা !

Saturday, August 26, 2017

মন চাই তোমার

কবি-সাইদুল ইসলাম
সোনা চাইনা রূপা চাইনা 
চাই শুধু তোমার মন, 
ভালোবাসা দিয়ে সাজাব 
তোমায় নিয়ে নতুন জীবন। 
চাইনা কোন দামি গাড়ি চাইযে 
 তোমার হাত দুটি, 
যে হাতে হাত রেখে পাড়ি 
দিব দূর্গম পথ 'টি। 
ঘর বাঁধিব নদীর কূলে 
তুমি আমি দু'জন মিলে, 
নীল আকাশ বাতাস তুমিও 
এসো স্বপ্নীল নীলে। 
ভোর বেলা কুসুম ফুলের মালা 
পড়াব তোমার গলে, 
তুমি শুধু বল মনটা দিবে 
 দিবে কি মনের দামে।? 
চাইব না কিছু আর যদি 
তোমায় পাই একবার, 
দূর থেকে দেখনা উঁকি মেরে 
আমি শুধুই তোমার।

Thursday, August 17, 2017

বর্ষা

কবি-আবুল কালাম আজাদ
বৃষ্টি ভেজা গোধূলী
মেঘ মনে হয় মাদুলি
নীল আকাশের গায়,
থমকে থমকে চমকে
দেয় কে যেন ধমকে
জলধির জলসায় !
সেই সুদূরের আকাশে
সব মনে হয় ফ্যাকাসে
ঝাপসা মনের কোণ---
দূর্বা ঘাসের দিনলিপি
শিশিরভেজা স্বরলিপি
জলপিপির মতন !!
ধারা ঝরঝর ঝরছে
ঘর নড়বড় করছে
জাগছে মনে শঙ্কা !
শিয়াল দূরে ডাকছে
অশুভ কে হাঁকছে
বাজছে যে কি ডঙ্কা !
গরু-ছাগল ধান গেল,
দুখীজনের মান গেল,
বর্ষা তবু চলছে ,
পুকুর ডুবে মাছ গেল,
আম-কাঁঠালের গাছ গেল,
বৃষ্টিতে দেশ জ্বলছে !

Thursday, August 10, 2017

দু’জন শুধুই দু’জনার

কবি-এবিএম সোহেল রশিদ
ফুলসজ্জার দু’টি ফুল সেদিন সারা রাত বলেছিল নতুন সংলাপ
সেই থেকে ফুলদানিতে একে একে জমলো ২২টি লাল গোলাপ
নবগঙ্গা ও কুমার নদী দিনপঞ্জি মেনে ভাসিয়ে ছিল বরণ-ভেলা
কলম সৈনিক, মানুষ গড়ার কারিগরকে নিয়ে মেতে ছিল বেলা
.
সেই থেকে জীবনের বাগানে তার, সুখপাখি শুনিয়ে যাচ্ছে সুরের সম্ভার
যুক্ত হওয়া দুটি ফুল বাগানের বৈচিত্র্য বাড়িয়েছে শতগুণ; ভালোবাসার
খ্যাতির সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে উঠবেই জানি তোমরা জ্ঞানের পাহাড়ে
সুখী হোক তোমাদের দাম্পত্য জীবন। লক্ষ-কোটি আলোর বাহারে
.
সৈয়দ মাজাহারুল পারভেজ আর ভাবীর যৌথ পারাপার
কানেকানে বলে দিয়েছে বার বার; দু’জন শুধুই দু’জনার
শুভ হোক আগামীর পথ; শুভ হোক প্রতিটি দিন
শুভ হোক বিবাহ বার্ষিকী, পৃথিবী থাকবে যতদিন

রাত ও নারীর সম্পর্ক

কবি-অভিলাষ অভি
একটা নিদ্রাযাতো নারীর পাশে
অামি সারা রাত বসে থাকি
দেখি তার ভ্রু ঘাড়ের পছনে জমে থাকা ঘাম।
কোনো এক উদাসীন কল্পনায় ছেঁয়ে যায় মন,
রাত কেবলেই কড়া নাড়ে রাতের বারান্দায়।
অাকাশ ছুঁই ছুঁই করে অন্ধকারে
চাঁদ ডুবে যায়, তারকা লুকিয়ে পড়ে
রাতে নারীরা অারও সুন্দর হয়ে ওঠে।
এ রাত যেন থেকে যায়
এ সময় যেন থমকে দাঁড়ায়,
এই একটা রাতই যথেষ্ট, একটা ভেনাশ দেখার জন্য
এই মধুশ্রী রাত যেন কোনো দিন না ফুরায়,
এ রাত ফুরাবার নয়।

কুলের ঠিকানা মেলেনি

কবি-কাজী এনামুল হক
নিতান্ত ভালোবাসার কথা বলে স্বাগ্রহে,
এতোটা কাছাকাছি এসেছিলে তাই মানবিক হাত বাড়িয়ে দেওয়া,
আশ্রয় বা প্রশ্রয়ের কথা ভাবিনি কখনও; স্বভাবও তেমনটা নয়,
ছোট করে দেখি না কোন ভালোবাসা।
ঘৃণা,প্রতারণা যেটাই করো অকারনে,
সে ব্যক্তিগত অভিরুচি। বুক দেখালে কাউকে পিঠ দেখাই না।
কোনদিনই বুকের সন্ধান পায় না, যাকে একবার পিঠ দেখাই।
মনের মতিগতিতেই চলাচলে অভ্যস্থ।
মন মরে গেছে সেই কবে থেকে,
বুকের মধ্যে এখন মৃত স্বপ্নের বাস; যেন আহত সব অভিলাষ!
দু’কদম সামনে এগুলেই পিছু থেকে টান দেয় কালের অকল্যাণ।
সবই তাঁর লীলাখেলা জগতজুড়ে।
ভরা সমুদ্রের তুফাণে সাঁতার কেটেই আহত ক্লান্ত-শ্রান্ত; তবু ও
কুলের ঠিকানা মেলেনি; জগতে কেউ বুঝি কুল তার পায় না।

সুখ কি?

কবি-ফাতেমা সুলতানা সুমি
আকাশ জুড়ে মেঘের খেলা
সেটাই বুঝি সুখ?
নাকি মায়ের মিষ্টিমধুর
হাসিভরা মুখ?
সুখ মানে কি ছোট্ট খুকির
পুতুল নিয়ে খেলা,
নাকি খোকার নাটাই-ঘুড়ি
সারা-বিকেল বেলা?
সুখ হয়তো ছোট্ট শিশুর
লোশনমাখা গন্ধ
হয়তোবা সে কোন ছড়ার
হারিয়ে যাওয়া ছন্দ।
সুখ মানে কি আমের আচার
নাকি মাখন-ছানা
হয়তো বা সুখ অচীনপুরের
অজানা ঠিকানা।
সুখ মানে কি হারিয়ে যাওয়া
প্রিয়মুখের ছায়া
সুখ কি তবে সাগর গভীর
প্রচন্ড এক মায়া?

আশংকায়

কবি-আইরীন কাকলী
তারপর অন্য একটা জীবন
শত শত গাংচিল আর নীলমেঘ এসে
ভীড় করে সেখানে।
তাজমহলের শুভ্র পাথরের মত ভালবাসা যেখানে পুনর্জন্ম হয় নতুন ক্যনভাসে;
তুলির আঁচরে নাচে প্রেম প্রাচুর্যের পাহাড়।
পেছনে আহত হৃদয়,
মুমূর্ষু বিশ্বাস
সদ্য মৃত স্বপ্নতে দেখে অহর্নিশ আস্থার আগামী।
অভিজ্ঞতার ক্ষুদ্রতায় যে পথিক
বারংবার জিততে চেয়েও হেরে যায়..
সৃষ্টির বিশালতায় সে পথিক
সত্যিই কি হারিয়ে যাবে??

যৌবনের ঢল

আবুল কালাম আজাদ
তিরিশ হলে যায়রে চলে
উড়ুউড়ু ভাব,
উচাটন মন ধরে তখন
দুরদুরু স্বভাব ।
বিবেক চাঙ্গা না হলে--
অনায়াসে যায়রে ভেসে
যৌবনের ঢলে !
মনফাগুনে আগুনতৃষ্ণা
দাবানলের মত,
ধ্বংস-ধকল পোড়ে সকল
লজ্জা-শরম যত ।
সুখের স্বপ্ন যে আশায় --
ছলেবলে নোনাজলে
তাই তাকে ভাসায় !
লোভলালসায় ভাসার আগে
ভাবো বন্ধুগন ,
বন্ধনহীন ছন্দআগুন
পুড়বে বৃন্দাবন ।
স্বস্তি যাবে যে উড়ে
স্বপ্নে দেখা পায়রা পাখা
মেলবে দূরে দূরে ।

স্মৃতির বহিরাবরণে...

মোহাম্মদ অংকন
কবিতা তোমায় যে আর পড়েনা মনে 
কবে সেই হাত ধরে হেটেছি দুজনে। 
কবে সেই গ্রামের পথে... 
কবে সেই ডিঙি নৌকাতে... 
দুজনে বলেছি কথা ফিসফিস, গোপনে।। 
 কবিতা তুমি শহরের গড়নে গড়া 
মনটাও তোমার ইট পাথরে তৈরি করা, 
গ্রামের ছেলে আমি, হা হা হা রে 
তাকে ভালবাসবে না জানি 
ঝড়ের ঐ সামীনা হারাবার তাড়নায় 
আমিও তোমায় কভু রাখিনি চিনে।।