Thursday, May 25, 2017

ওস্তাদের কদর

কবি-মাইনুদ্দিন আল আতিক
হানিফা নামের বালক ছেলে পড়তো মাদরাসাতে, 
ইলেমের পিপাসায় ছুটতো সে প্রতিদিন প্রভাতে। 
একদা শীতের সকালবেলা শিশির ভেজা ঘাসে, 
খালি পায়ে রওয়ানা হলো মাদরাসার অভিলাষে। 
ওস্তাদ দেখলেন হানিফা আজ এসেছে খালি পায়ে, 
শিশিরকনা ঝরছে তার চরণ যুগল বেয়ে। 
কাছে ডেকে শুধান, বাছা জুতা নাই কেনো পায়, 
তোমায় কি জুতা কিনে দেয়নি তোমার বাবায়? 
আমাদের পরিবার অসহায় অতি বাবা নাই যে বেঁচে, 
জুতা কেনার টাকা আমি পাবো কার কাছে। 
এ কথা শুনে ভাবলেন ওস্তাদ আমার তো ঢের জুতা, 
এক জোড়া দিলে হানিফাকে যাবেনাকো বৃথা। 
ওস্তাদ উঠে গেলেন রুমে; এসে খানিক বাদে, 
হানিফার হাতে তুলে দিলেন জুতা মনের খোশামোদে। 
পথে যেতে যেতে ভাবলো হানিফা কি করবো হায়, 
কি করে লাগাই এ জুতা চরণে যা ছিলো ওস্তাদের পায়। 
জুতা জোড়া কাপড়ের তৈরি টুপি বানালে কেমন হয়! 
গরম পানিতে সিদ্ধ করে কাপড় খুলে লয়। 
দর্জির কাছে ছুটলো এবার; বললো কাছে গিয়ে, 
আমায় একটি টুপি বানিয়ে দিন এই কাপড় টুকরো দিয়ে। 
পর প্রভাতে আবারও হানিফা দৈনিক রুটিন মতে, 
টুপিখানা মাথায় দিয়ে গেলো মাদরাসাতে। 
ওস্তাদ দেখলেন আজও হানিফা এসেছে খালি পায়ে, 
রাগ মহারাজ তাড়া করলো ওস্তাদজীর গায়ে। 
ডেকে পাঠালেন হানিফাকে তাঁর নির্জন রুমে, 
জিজ্ঞাসেন ক্রোধে জুতা কোথায়? চোখ রাঙিয়ে ক্রমে। 
হানিফা শুধু নির্বাক হয়ে মিটিমিটি হাসে, 
অগ্নিশর্মা হয়ে ওস্তাদ বেত নিয়ে আসে। 
হানিফা এবার খুললো মুখ; শুনেন ওস্তাদজী, 
বারেক তাকান মাথার দিকে, দেখেন তো দিয়েছি কি? 
ওস্তাদ দেখলেন শিষ্যের মাথায় জুতার কাপড়ের টুপি, 
যে জুতা কাল দিয়েছিলেন তিনি নেননি কোনো রুপি। 
অবাক হয়ে বললেন ওস্তাদ জুতার কাপড় কেনো মাথায়, 
কিভাবে লাগাবো সে জুতা চরণে যা ছিলো আপনার পায়। 
এ কথা শুনে ওস্তাদজীর চোখ বেয়ে পরলো জল, 
কে শিখালো তোরে এ শিষ্টাচার আমায় একবার বল? 
মায়ের কাছে শিখেছি গুরু এতটুকু জ্ঞান, 
কোনোদিন ধন্য হওয়া যায়না করলে ওস্তাদের অসম্মান। 
ওস্তাদ এবার জড়িয়ে ধরে দোয়া করলেন তায়, 
হানিফাকে তুমি অমর করো ওগো দয়াময়। 
ওস্তাদের দোয়া যায়নি বিফলে কবুল হলো উক্ত, 
সেই বালক হলো শেষে শ্রেষ্ঠ ইমামের তালিকাভুক্ত। 
যার মাযহাব আমাদের মাঝে সর্বাধিক পরিচিত, 
সবাই জানি তার নাম হানাফী মাযহাবী যত।

No comments:

Post a Comment